মাটির নীচে এক আস্ত সুড়ঙ্গ। সেই সুড়ঙ্গের নীচে রয়েছে ঘর, বাথরুম, টিউবওয়েল। সুড়ঙ্গের পথ এতই চওড়া যে সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা যায় কিন্তু সেই সুড়ঙ্গের পথ এমনই যে কারোর চোখেই পড়বে না। সেখানে আটকে থাকা যুবকরা আবার সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে বাজারেও যায়। না, কোনও সিনেমা চলছে না, বরং এটা বাস্তব। এমনই এক সুড়ঙ্গ থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে উত্তর ২৪ পরগণার পানিহাটির নরসিংহ দত্ত ঘাট রোড এলাকা থেকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, পানিহাটি নরসিংহ দত্ত ঘাট রোড এলাকায় বালক ব্রহ্মচারী আশ্রমের কাছে একটি পরিত্যক্ত জমি রয়েছে। সেই জমিটি কালী বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তির। দীর্ঘদিন সেখানে কারোর আনাগোনা নেই। ফলত, ঝোপঝাড়ে পরিণত হ্যেছ ওই জমি।
সেই জমির মাটির নীচেই সুড়ঙ্গ রয়েছে এবং ওই সুড়ঙ্গের মধ্যে একটি ঘরে ২০ থেকে ২২ জন যুবককে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ জানায় বিহারের এক ১৯ বছর বয়সী যুবক। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সুড়ঙ্গ খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। জমিতে জঙ্গল থাকায় তদন্তের কাজ চালাতে অসুবিধা হচ্ছে।
ওই যুবক পুলিশকে জানায় যে মাটির নীচে সুড়ঙ্গের মধ্যে ঘর রয়েছে। সেখানে তাঁর মতো ২০-২২ জন যুবককে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে ব্যবহারের জন্য রয়েছে বাথরুম, টিউবওয়েল, সবই। তারা বাজার করার জন্য বাইরে বেরোতে পারে। এমনকি, ওই যুবক এও দাবী করে যে ওই সুড়ঙ্গ নাকি এতটাই চওড়া যে বাজার করতে সাইকেল নিয়ে ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে যাতায়াত করা যায়।
তবে কেন তাদের আটকে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারে নি যুবক। তবে এমন এক সুড়ঙ্গের নীচে আটকে রাখার অভিযোগ পেয়ে বিহার পুলিশ সত্বর যোগাযোগ করে বাংলা পুলিশের সঙ্গে। এরপর গত শুক্রবার রাতেই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের সঙ্গে ওই সুড়ঙ্গের তদন্তে নেমেছে বিহার পুলিশ। শনিবারও তদন্ত চালানো হয়েছে বলে খবর।
এই জমিটি যাঁর, সেই কালী বিশ্বাসও এরকম কোনও সুড়ঙ্গের কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শাবল দিয়ে মাটি খোঁড়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাদা-মাটি বেরোচ্ছে। পুলিশ জঙ্গল সাফাই করতে বলেছে। তারপর তদন্ত শুরু হবে”।
অন্যদিকে আবার এই সুড়ঙ্গের কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার জুলি সরকার। তাঁর কথায়, “ছোটো থেকে এখানেই মানুষ হয়েছি। কখনও এরকম কিছু শুনিনি”। তবে এখনই কোনও অনুমান করতে নারাজ তিনি। শুরু হয়েছে তদন্ত। তদন্তের পরই আসল ঘটনা জানা যাবে বলে জানান তিনি।





