হঠাৎ বিকট শব্দ! কেঁপে উঠল এলাকা। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলেন মানুষজন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ধোঁয়া, চিৎকার আর ছুটোছুটি— কী হয়েছে কেউ বুঝে উঠতে পারছিলেন না! চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পোড়া আসবাব, ছাদের ভাঙা অংশ, ঘরের মধ্যে পড়ে থাকা দগ্ধ দেহ… এক মুহূর্তে যেন বদলে গেল গোটা চিত্র। এমন ভয়াবহ দৃশ্য এর আগে দেখেননি ঢোলাহাটের বাসিন্দারা। আগুনের তাপে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে ঘরের ভেতর রাখা সমস্ত জিনিসপত্র। চারদিকে বারুদের ঝাঁঝালো গন্ধ, আর তার মধ্যেই স্বজনহারাদের কান্নার আর্তনাদ।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ঢোলাহাটে ঘটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ। স্থানীয়দের কেউ বলছেন, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। আবার কারও দাবি, পরিত্যক্ত বাজির গুদাম থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যে কারণই হোক, তাতেই এক নিমেষে শেষ হয়ে গেল একটি পরিবার। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশপাশের বাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে যায়, কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। প্রথমে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়— তিনটি শিশুও ছিল তাদের মধ্যে। মাত্র ৬ মাস, ৪ মাস ও ৮ মাসের নিষ্পাপ শিশুদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে বিস্ফোরণের অভিঘাতে। এছাড়াও ১১ বছরের এক কিশোরও এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাড়িতে গত ১০ বছর ধরে বেআইনিভাবে বাজি তৈরির কাজ চলত। এলাকার মানুষ একাধিকবার অভিযোগ জানালেও প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি। এই বিস্ফোরণের পর থেকেই বাড়ির দুই মালিক— দুই ভাই— বেপাত্তা। তারা গুরুতর আহত অবস্থায় কোথাও চিকিৎসাধীন নাকি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। তবে তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়! গত ফেব্রুয়ারিতেই কল্যাণীর বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। মহেশতলা, খাদিকুল, দত্তপুকুর— একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেই চলেছে। কিন্তু কেন বন্ধ হচ্ছে না এই বেআইনি বাজি কারখানা? কেন প্রশাসন আগে থেকে ব্যবস্থা নিচ্ছে না? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। দুর্ঘটনার পর কিছুদিন তৎপরতা দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ভুলে যান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আজ, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিনটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ গেল!
আরও পড়ুনঃ Weather update : বুধবারেই ঝড়বৃষ্টির হানা! বজ্রপাত-দমকা হাওয়া, কি বলছে হাওয়া অফিস?
এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী দল বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “তৃণমূলের আমলে এই বেআইনি বাজি কারখানা গজিয়ে উঠছে, পুলিশ সব জানলেও কিছু করছে না!” যদিও প্রশাসনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এত বড় দুর্ঘটনার পর এবার কি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? নাকি কিছুদিন পর আবারও নতুন কোনও বিস্ফোরণের খবর শুনতে হবে?





