দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে কিছুমাস আগেই শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ হয়েছে কোচবিহারের ববিতা সরকারের। মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের হকের চাকরি ছিনিয়ে এনেছিলেন ববিতা। কিন্তু এবার তাঁর চাকরি নিয়েও উঠল প্রশ্ন। শিলিগুড়িরএক চাকরিপ্রার্থীর দাবী পর্ষদের ভুলে ববিতার দু’নম্বর বেড়েছিল। সেই কারণেই চাকরি হয়েছে তাঁর। পরেশকন্যার সেই চাকরির আসল দাবীদার আসল অন্য এক তরুণী।
অনেক চাকরিপ্রার্থী এখনও চাকরির জন্য লড়াই করছেন। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাস্তায় বহু চাকরিপ্রার্থী। নিজেদের মতো করে চাকরির দাবী জানাচ্ছেন তাঁরা। তবে ববিতার লড়াইটা ছিল অন্যরকম। সোজাসুজি রাজ্যের মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ের চাকরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
ববিতা সমস্ত তথ্যপ্রমাণ-সহ আদালতে জানিয়েছিলেন যে পরেশকন্যা অঙ্কিতা যে চাকরি পেয়েছিলেন সেই চাকরির আসল দাবিদার তিনি নিজে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে জয়ও পান ববিতা। হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিল হয় অঙ্কিতার। চাকরি জীবনে উপার্জন করা সমস্ত মাইনে ফেরত দিতে হয় তাঁকে। আর তাঁর জায়গায় চাকরিতে যোগ দেন ববিতা।
কিন্তু এবার সেই ববিতার চাকরি নিয়েও উঠল প্রশ্ন। শিলিগুড়ির বাসিন্দা অনামিকা রায়ের দাবী, অ্যাকাডেমিক কোয়ালিফিশনে ববিতার ৩১ নম্বর পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পর্ষদের ভুলে তিনি পান ৩৩ নম্বর। এর ফলে প্যানেলের ১৯ নম্বরে নাম ওঠে ববিতার।
কিন্তু কারসাজির জেরে প্যানেলের ১৯ নম্বরে পরেশকন্যা অঙ্কিতার নাম ঢোকানোয় ববিতার নম্বর নেমে আসে ২০-তে। অনামিকার দাবী, ববিতা যদি সঠিক নম্বর পেতেন, তাহলে প্যানেলে তাঁর নাম থাকত ২৬ নম্বরে। আর ববিতার জায়গায় নাম থাকত তাঁর নিজের অর্থাৎ অনামিকার। তাঁর দাবী, অঙ্কিতার খোয়ানো চাকরি আসলে তাঁরই পাওয়ার কথা।
জানা যাচ্ছে, এবার ববিতাকে অনুকরণ করেই আইনি লড়াইয়ে সামিল হবেন অনামিকা নিজে। আইনজীবীর পরামর্শও নিতে শুরু করেছেন তিনি ইতিমধ্যেই। এই বিষয়ে ববিতার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও পর্যন্ত।





