খিদের জ্বালায় কেঁদে চলেছে সন্তান। সন্তানের সেই কান্না কী আর কোনও মা সহ্য করতে পারেন। সেই কারণে সংসার খরচের টাকা থেকে সন্তানের দুধ কিনেছিলেন মা। আর সেটাই তাঁর ঘোর অপরাধ।
সংসার খরচের টাকা থেকে কেন টাকা সরানো হয়েছে। এই নিয়ে বধূকে চোর অপবাদ দেন শাশুড়ি ও ননদ। এরপরই তাঁকে বি’ব’স্ত্র করে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। নেড়া করেও দেওয়া হয় গৃহবধূকে। ঘৃণ্য এই ঘটনার সাক্ষী বাংলা।
কোথায় হয়েছে এমন ঘটনা?
এমন মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার নামখানা নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রাজরাজেশ্বরপুর এলাকায়। জানা গিয়েছে, কিছু বছর আগেই সেই এলাকায় বিয়ে হয় নির্যাতিতার। এক একরত্তি সন্তান রয়েছে তাঁর। জানা গিয়েছে, গতকাল, শুক্রবার রাতে নাকি তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে বেশ কিছু টাকা গায়েব হয়ে যায়।
ওই গৃহবধূর শাশুড়ি ও ননদ অভিযোগ করতে থাকে যে সন্তানের দুধ কেনার জন্যই নাকি ওই বধূ সেই টাকা চুরি করেছেন। সন্দেহের বশে বধূকে চোর অপবাদ দেন তারা। এরপর শুরু হয় তাঁর উপর অত্যাচার। অভিযোগ, বধূকে বি’ব’স্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে শাশুড়ি ও ননদ। এমনকি, তাঁকে নেড়াও করিয়ে দেওয়া হয়। অনেকক্ষণ ধরে চলতে থাকে এই নির্মম কাণ্ড।
এমন দেখেশুনে প্রতিবেশীরাই পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কাকদ্বীপ থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ওই বধূকে। পুলিশ বধূর শাশুড়ি ও ননদকে আটক করে বলে খবর।
প্রতিবেশীরা জানান, এটা নতুন ঘটনা নয়। ওই গৃহবধূর বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপর অকথ্য অত্যাচার চালায় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দিনের পর দিন অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে। প্রতিবেশীরা দাবী করেছেন যাতে দোষীদের কঠোর শাস্তি হয়। বধূর স্বামীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





