১০ লক্ষ টাকা দিলেই বিধায়ক থেকে সোজা মন্ত্রী, আইপ্যাকের নাম করে টোপ হুমায়ুন কবীরকে, পুলিশের জালে ‘সাংবাদিক’

কোনও লিঙ্কে ক্লিক করে বা ওটিপি দিয়ে টাকা হাতানোর ঘটনা এখন যেন অহরহ ঘটছে। এমন ঘটনার নজির নেহাতই কম নয়। নানান ধরণের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করা এখন যেন জলভাত হয়ে গিয়েছে। নানান মানুষ সেই ফাঁদে পা-ও দিয়ে দেন। এই প্রতারণা থেকে বাদ যাচ্ছেন রাজ্যের আমলা মন্ত্রীরাও। এবার সেরকমই এক প্রতারণার ফাঁদে পড়লেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

পুলিশ সূত্রে খবর, বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে মন্ত্রী পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ফোন করেছিলেন এক যুবক। সেই যুবকের নাম অঞ্জন সরকার। তিনি নিজেকে আইপ্যাকের কর্মী বলে পরিচয় দেন। বিপুল টাকার বিনিময়ে হুমায়ুন কবীরকে মন্ত্রী করে দেওয়ার প্রলোভন দেখান ওই যুবক, এমনটাই অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, এভাবে প্রলোভন দেখিয়ে কখনও পাঁচ লক্ষ, তো কখনও আবার দশ লক্ষ টাকা চাওয়া হয় বিধায়কের থেকে। দেড় লক্ষ টাকা অগ্রিমও চাওয়া হয়েছিল বলে খবর। ওই যুবক বিধায়ককে এও বলেছিলেন যে আইপ্যাকের নানান কর্তার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। দিনের পর দিন এমন চলতে থাকায় সন্দেশ হয় হুমায়ুন কবীরের।

তৃণমূল বিধায়ক বুঝতে পারেন যে গোটা বিষয়টিই ভুয়ো। সেই কারণে ওই যুবককে প্রমাণ সহ ধরার জন্য তিনি ‘ফোন পে’-তে ২৫ হাজার টাকা পাঠান বলে খবর। পুলিশে অভিযোগ করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গতকাল, শনিবার ওই যুবককে মধ্যমগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই যুবককে জেলা আদালতে তোলা হলে তাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।  

কী বলছেন তৃণমূল বিধায়ক?

এই ঘটনা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর  বলেন, “উনি পেশায় সাংবাদিক। একাধিক সময়ে তিনি পেশাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন লোককে প্রতারণা করছেন। আমার সঙ্গেও সেই চেষ্টা করেছিলেন। আমি কোনও কিছু দিয়ে কিছু নিই না। কাজেই উনি ভুল জায়গায় করেছেন”।

এই বিষয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেডকোয়ার্টার মাজিদ খানের বক্তব্য, “বিগত দু’দিন ধরে হুমায়ুন কবীরকে হোয়াটস অ্যাপে ফোন করছিলেন। আইপ্যাকের পরিচয় দিয়ে তিনি বিধায়কের কাছ থেকে টাকা চাইছিলেন। সেই টাকা দিলে তিনি বিধায়ককে মন্ত্রী করে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন”।

RELATED Articles