গ্রামে গ্রামে ঘুরে আচার, চাটনি বিক্রি করতেন তিনি। দৈনিক রোজগার ওই ১০০-১৫০ টাকা মতো। অভাবের সংসার। মুদির দোকানে একগাদা ঋণ। একপ্রকার বাধ্য হয়েই ৬০ টাকা দিয়ে লটারির টিকিট কিনেছিলেন নিজের ভাগ্য যাচাই করার জন্য। আর এক টিকিতেই বাজিমাত। রাতারাতি লটারিতে এক কোটি টাকা জিতে কোটিপতি হয়ে গেলেন মুরারই থানার পলশা গ্রামের নূর আলম শেখ।
খবর পেয়ে দারুণ খুশি হন নূর ও তাঁর পরিবার। কিন্তু ভয়ের চোটে দু’দিন বাড়ি থেকেই বেরন নি তিনি। অবশেষে গত সোমবার ছেলেকে নিয়ে দ্বারস্থ হন মুরারই থানার। সেখানে গিয়ে জানান তাঁর লটারিতে টাকা জেতার কথা। জানা গিয়েছে, নূরের এই টাকা যতদিন না পর্যন্ত সরকারিভাবে ভাঙানো হচ্ছে, ততদিন নূরের পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে পুলিশ।
নূর জানান, “গত শুক্রবার চাটনি বেচে বাড়ি ফেরার পথে বাঁশলৈ বাজারে এক লটারির টিকিট বিক্রেতার কাছে থেকে ৬০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনি। বাড়ি ফিরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। দুপুর একটায় খেলায় ফল বেরোয়। ওই টিকিট বিক্রেতার একটি টিকিট এক কোটি টাকা জিতেছে বলে গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘুম ভেঙে, নম্বর মিলিয়ে দেখি আমিই জিতেছি”।
জানা গিয়েছে, বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে নূরের অভাবের সংসার। মাটির বাড়ি। ঝড়, বৃষ্টি হলেই ঘরে জল পড়ে। তখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় পরিবারকে। অভাবের তাড়নায় তাঁর ছেলে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারেনি। ছেলে এখন টোটোর গ্যারেজে কাজ করে। কোনওরকমে চলছে সংসার। তবে মেয়ের পড়া বন্ধ করেন নি নূর। এখন একাদশ শ্রেণিতে পড়ে নূরের মেয়ে। মেয়ের বিয়ে নিয়েও সবসময় চিন্তায় থাকেন নূর।
তিনি জানান, “দিনের শেষে আয় হত ১০০-১৫০ টাকা। সেই টাকায় সংসার চালাবো না ওষুধের খরচ দেব? কোনও দিন ভাবিনি লটারি জিতব। পুলিশের কাছে আশ্রয় নিলে সমস্যা হবে না ভেবে থানায় এসেছি”। টাকাটা পেলে আগে বাড়ি করবেন বলে জানান নূর। এও জানান যে আচারের ব্যবসা ছেড়ে অন্য কোনও ব্যবসা করবেন। মেয়ের বিয়ের জন্যও টাকা রেখে দেবেন।
নূর জেতায় খুশি মুরারই এলাকার বৈধ লটারির টিকিট বিক্রেতারাও। এই টিকিট বিক্রেতা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বৈধ লটারিতে পুরস্কার জুটছিল না। অনেকে অবৈধ লটারির টিকিট কাটছিলেন। প্রথম পুরস্কারের পরে এই তিন দিনে সরকারি টিকিট বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে”।





