এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাইকেল চুরির অপবাদ এনে তাঁকে বেধড়ক মারধর করল স্থানীয়রা। আর এই গোটা ঘটনাটি ঘটল তৃণমূলের এক কাউন্সিলরের উপস্থিতিতেই। শুধু তাই-ই নয়, সেই শিক্ষকের উপর কাউন্সিলরের পোষা কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ, সোমবার মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। আক্রান্ত ওই শিক্ষকের নাম সুদীপ টুডু। তিনি হবিবপুরের মানিকোড়া হাইস্কুলের ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষক। তাঁকে চড় অপবাদ দিয়ে প্রথমে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এরপরও তৃণমূলের কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরীর নির্দেশেই তাঁর পোষা কুকুরকে শিক্ষকের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়। কুকুরের কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত হন ওই শিক্ষক।
সুদীপ টুডু মালদহ জেলা ক্রীড়াক্ষেত্রে বেশ পরিচিত নাম। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর এক আত্মীয় ভর্তি রয়েছেন। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে নিজের গাড়ি চালিয়ে মালঞ্চপল্লীতে নিজের বাড়ি যান সুদীপবাবু।
কিন্তু অভিযোগ, কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরী ও তাঁর সঙ্গী সাথীরা তাঁকে সাইকেল চুরির অপবাদ দেন। প্রথমে এই শুনে শিক্ষক অবাক হয়ে যান। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। শিক্ষক তাঁর গাড়ির চাবি দেখিয়ে বলেন যে তাঁর নিজের গাড়ি রয়েছে। তিনি একজন শিক্ষক। তিনি কেন চুরি করবেন? এই শুনে কাউন্সিলরের সঙ্গীসাথীরা নাকি এও বলে, “শিক্ষকরা কী চুরি করে না”?
এর পর শিক্ষককে চূড়ান্ত হেনস্থা, মারধর করার পর তাঁর গায়ে কাউন্সিলরের পোষা কুকুরকে লেলিয়ে দেওয়া হয়। সেই কুকুরের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় শিক্ষকের দেহ। দীর্ঘ রাস্তা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর স্থানীয়দের কয়েকজন মিলে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এদিন থানায় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন সুদীপবাবু। কপালে, গায়ে স্টিচ পড়েছে তাঁর।
এই অবস্থায় ওই শিক্ষক বলেন, “আমাকে হঠাৎই তিন নম্বরের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মারধর করেন। আমি জানাই আমি একজন স্কুল টিচার। আমার কাছে চারচাকা গাড়ি আছে। আমি চাবি দেখালাম। সব চাবি, মোবাইল কেড়ে নিল। তার পর বলল শিক্ষক কি চুরি করতে পারে না? এসব বলতে বলতে নিজের পোষা কুকুর আমার গায়ে লেলিয়ে দিল”। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউন্সিলরের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।





