কল্যাণীর অন্যতম সরকারি হাসপাতালের সামনে পড়ে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। ট্রলির উপর শুয়ে, শরীরে কোনও পোশাক নেই। তাঁকে ঘিরে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন আসা-যাওয়া করা রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা। কেউ কেউ পাশ কাটিয়ে যান মুখ ফিরিয়ে। কেউ আবার ভিডিও করেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি সাহায্যের হাত বাড়াতে। চারদিন ধরে এমন অবস্থায় পড়ে আছেন তিনি—এই দৃশ্য যেন মানবিকতার মুখে চরম লজ্জা।
জানা গিয়েছে, ট্রলিতে পড়ে থাকা ওই ব্যক্তি এইচআইভি (HIV Positive) আক্রান্ত। তিনি কিছু বলতে পারছিলেন না প্রথমদিকে। বহু চেষ্টার পর জানিয়েছেন, তাঁর নাম ও বাড়ির ঠিকানা—নদিয়ার চাকদহ থানার ব্রহ্মপাড়া। বয়স ৬২ বছর। একসময় খড়দহে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন বলে জানান। তাঁর ছেলের নামও বলেন। কিন্তু কেন ছেলে তাঁকে ফেলে গেলেন, সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি। কথা বলতে বলতেই তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন।
হাসপাতালের বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সুপারভাইজার সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “গত ১০ জুলাই ছুটি পাওয়ার পর ওঁকে নিয়ে যান তাঁর ছেলে। কিন্তু রাতেই ট্রলিতে শুইয়ে হাসপাতালের গেটের সামনে রেখে চলে যান। তখন আমরা বলি, এখানে কেন রেখেছেন? উনি বলেন, রাতে নিয়ে যাব। তারপর আর আসেননি।” পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা কোনও ব্যবস্থা নেননি। এমনকি হাসপাতালের সুপার, প্রশাসন—সবাই জেনেও কেউ এগিয়ে আসেননি।
চারদিন আগে খবর পেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছিলেন এক পুলিশকর্মী। তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। হাসপাতালের তরফে রোগীকে দেখার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে আর ভর্তি নেওয়া হয়নি। ফলে, দিনের পর দিন বহির্বিভাগের সামনে পড়ে রয়েছেন ওই ব্যক্তি—খোলা আকাশের নীচে, খাবার-জল ছাড়াই, নিঃসহায় ও নগ্ন অবস্থায়।
আরও পড়ুনঃ Campus Violence: ল’কলেজে প্রেম প্রত্যাখ্যানের ‘শাস্তি’? ক্লাসঘরে ছাত্রীকে টেনে নিয়ে গলা টিপে ধরার অভিযোগ, কাঠগড়ায় ৫ তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া!
এই ঘটনার জেরে ক্ষোভে ফুঁসছেন হাসপাতালে আসা সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে নিরাপত্তা ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, সেখানে কেন একজন রোগীকে এভাবে ফেলে রাখা হবে? পরিবার তাঁকে না নিলেও কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? চারদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে অবহেলিত অবস্থায় দেখে যেন বিবেক তাড়িত হচ্ছে বহু মানুষের। এই চিত্র যেন এক নির্মম সমাজের প্রতিচ্ছবি—যেখানে একজন মানুষ নিঃশব্দে পড়ে থাকেন, আর সকলে পাশ কেটে যান।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার