ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নাকি নিছক ‘দাদাগিরি’? কলেজ চত্বর যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের দিশা খোঁজার কথা, সেখানেই যদি মেয়েদের নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে, তা হলে স্বাভাবিকভাবেই তা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে। সম্প্রতি কান্দির রাজা বীরেন্দ্রচন্দ্র ল’কলেজে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় গোটা কান্দি এলাকা।
অভিযোগ, কলেজের এক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তাঁকে ও তাঁর বান্ধবীকে কলেজ কক্ষে ডেকে নেয়। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শুরু হয় হুমকি। ছাত্রীর দাবি, তাঁকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয় প্রকাশ্যেই। এরপর সুযোগ বুঝে কলেজের এক রুমে দরজা বন্ধ করে শুরু হয় নিগ্রহ। শুধু তাই নয়, বাইরে থেকে ‘বহিরাগত’ ডেকে এনে তাঁকে হেনস্তা করা হয় বলে দাবি নির্যাতিতার।
নির্যাতিতার কথায়, প্রথমে ধাক্কা, গালিগালাজ, পরে গলা টিপে ধরার মতো চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়। এমনকি তাঁর মুখে আঁচড় কেটে দেওয়া হয়, পেটে ও বুকে লাথিও মারা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে টেনে হিঁচড়ে মাঠের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় অশিক্ষক কর্মী ও সহপাঠীরা গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয় কান্দি মহকুমা হাসপাতালে।
তবে শুধু নির্যাতিতার তরফেই নয়, পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন অভিযুক্ত ছাত্রও। তাঁর দাবি, ওই ছাত্রী তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি তাঁকে নিজেই পোশাক খুলে ফাঁসানোর হুমকি দেয় ছাত্রীটি। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছে ওই ছাত্র। তবে এর সত্যতা যাচাই হয়নি এখনও।
আরও পড়ুনঃ India – pakistan: যুদ্ধ নয়, শান্তি চায় পাকিস্তান!’ অপারেশন সিঁদুরের পর পরমাণু হামলার জল্পনায় মুখ খুললেন শাহবাজ শরিফ!
পুলিশ সূত্রে খবর, ছয়জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী। প্রত্যেকেই তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া। বর্তমানে তাঁরা পলাতক। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় অধ্যক্ষ ছুটিতে ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুচিস্মিতা নাগ জানান, “ঘটনাটি কলেজ চত্বরে ঘটেনি।” তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও নৈতিকতার ভূমিকা নিয়ে।





