১ ঘণ্টার মধ্যেই ইডির দফতর থেকে বেরিয়ে এলেন অভিষেক, নিয়োগ দুর্নীতিতে সাড়ে ৬ হাজার পাতার জবাব

নিয়োগ দুর্নীতিতে ফের তাঁকে তলব করেছিল ইডি। সেই নির্দেশ মতোই আজ, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার মধ্যেই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে যান তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বেশিক্ষণ নয়, মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যেই ইডির দফতর থেকে বেরোলেন তিনি। বেরিয়ে এসে অভিষেক জানান, তাঁকে কোনও জিজ্ঞাসাবাদই করা হয়নি।

এর আগে যখন অভিষেক ইডির দফতরে গিয়েছেন, তখন প্রায় ৮-৯ ঘণ্টা ধরে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে। তবে আজ ১১টায় ঢুকে ১২টার সময়ই ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে আসায় এই নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন ইডি দফতরের বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকরা। জবাবে অভিষেক জানান, “আমার কাছে কিছু নথি চেয়েছিল। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার নোটিশে ৬ হাজার পৃষ্ঠার নথি রেডি করে জমা দিয়েছি।এই সীমিত সময়ের মধ্যেও সব কাগজপত্র দিয়েছি। এবার তা দেখে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন থাকলে আবার ডাকবে। ডাকলে আবার আসব”।

তৃণমূল সাংসদের কথায়, “আমি চাইলে এই সব নথিপত্র একটা চিঠি সহ পাঠিয়ে দিতে পারতাম। বলতেই পারতাম যে এগুলো দেখুন, তারপর কিছু জিজ্ঞাসার থাকলে ডেকে পাঠাবেন, আমি চলে আসব। কিন্তু কোনওদিন অজুহাত খুঁজিনি। নৈতিক ভাবে উচ্চস্থানে থাকতে চেয়েছি। তাই এসেছি”।

কেন বারবার তলব করা হচ্ছে অভিষেককে?

তাঁকে বারবার কেন তলব করা হচ্ছে, এই প্রশ্নের জবাবে অভিষেক বলেন, এটা স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশেই হেনস্থা। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালত কেন্দ্রীয় এজেন্সির থেকে জানতে চেয়েছিল্ল যে অভিষেকের বিরুদ্ধে তাদের কাছে কী তথ্য প্রমাণ বা অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেভাবে কিছুই জানাতে পারেনি কেন্দ্রীয় এজেন্সি। ফলে অভিষেককে রক্ষাকবচ দিয়েছিল সিঙ্গলবেঞ্চ।

এদিন অভিষেক বলেন, “সুপ্রিম কোর্টও কয়লা পাচার মামলায় একই প্রশ্ন করেছিল এজেন্সিকে। কিন্তু সেখানেও তথ্য প্রমাণ দিতে পারেনি এজেন্সি। তাই সুপ্রিম কোর্টও রক্ষাকবচ দিয়েছে। সেই রক্ষাকবচ এখনও রয়েছে”।

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতিতে ‘কালীঘাটের কাকু’ অর্থাৎ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র গ্রেফতার হওয়ার পর নাম জড়ায় অভিষেকের। অভিষেকের সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের কর্মী ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। সেই সূত্রেই নিয়োগ দুর্নীতির জেরে একাধিকবার তলব করা হয়েছে অভিষেককে। তৃণমূলের নবজোয়ার কর্মসূচি চলাকালীন তাঁকে তলব করেছিল ইডি। সেই সময় হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। মাস খানেক আগে তাঁর বাবা, মা ও স্ত্রীকেও নোটিশ পাঠায় ইডি। স্ত্রী রুজিরা হাজিরা দিলেও, হাজিরা দেন নি অভিষেকের বাবা-মা।

RELATED Articles