হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের নিয়ে নানান সময় নানান অভিযোগ উঠেই থাকে আমাদের দেশে। চিকিৎসায় গাফিলতিও যেন এখন এক রুটিনে পরিণত হয়েছে। কখনও ডান পায়ের অস্ত্রোপচার হয়ে বাম পায়ে, তো কখনও আবার ভুল ইঞ্জেকশন। রোগী যেন এখন চিকিৎসকের কাছে টাকা উপার্জনের মাধ্যম ছাড়া আর কিছুই নয়।
এসবের মাঝেই এবার এক চিকিৎসক এমন এক ঘটনা ঘটালেন, যা সমস্ত অভিযোগকেও হার মানিয়েছেন। ঠিক সময়ে চা না পাওয়ায় অস্ত্রোপচার না করে মাঝপথেই অপারেশন থিয়েটার ছেড়ে গোসা করে বেরিয়ে গেলেন চিকিৎসক। এর জেরে মাথায় হাত পড়ল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ-সহ রোগীর পরিজনদের।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
এমন ঘটনা ঘটেছে নাগপুরের মৌদা তহশিলের সরকারি হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, গত ৩ নভেম্বর ওই হাসপাতালে মোট ৮ জন মহিলার গর্ভাশয়ের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। প্রথম চারজন মহিলার অস্ত্রোপচার নির্বিঘ্নেই হয়। বাকিদের অ্যানাস্থেসিয়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরমধ্যেই ঘটে গেল এক বিপত্তি।
জানা গিয়েছে, ওই রোগীদের অস্ত্রোপচার করছিলেন তেজরং ভালাভির নামের এক চিকিৎসক। কয়েকজনের অস্ত্রোপচারন করে তিনি এক কাপ চা চেয়েছিলেন। কিন্তু সময়মত সেই দেন নি হাসপাতালের কর্মী। এর জেরেই ক্ষেপে যান তিনি। আর মাঝপথেই অস্ত্রোপচার ছেড়ে রেখে বেরিয়ে যান অপারেশন থিয়েটার ছেড়ে।
এই ঘটনায় প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সাহায্য চেয়ে খবর দেওয়া হয় জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে। অন্য এক চিকিৎসককে পাঠান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক। সেই চিকিৎসক বাকি মহিলাদের অস্ত্রোপচার করেন। তবে এই ঘটনায় ক্ষোভ জারি করে রোগীর পরিবাররা। এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক।
এই বিষয়ে নাগপুর জেলা পরিষদের সিইও সৌম্য শর্মা জানিয়েছেন, “সরকারি হাসপাতালের ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট হাতে এলেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।





