রাজনীতির আঙিনায় ফের উত্তেজনা। লোকসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আলোচনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট মিটে গিয়েছে, ফল প্রকাশও হয়েছে বহু আগেই। কিন্তু সেই ফলাফলকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন আইনি টানাপোড়েন। সেই আইনি লড়াইয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের কড়া বার্তার মুখে পড়লেন ডায়মন্ড হারবারের সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে শুনানিতে হাজির ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। জানা গিয়েছে, তিনি আদালতে বলেন তাঁর মক্কেল বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে রয়েছেন। সেই কারণে কিছুটা সময় চাওয়া হচ্ছে। এর আগেও দু’বার সময় চাওয়া হয়েছে এই মামলায়। ফলে এবার আদালতও কড়া মনোভাব গ্রহণ করে।
শুনানির শেষে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আর সময় দেওয়া হবে না। আগামী ১৯ আগস্টই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। তার আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লিখিত জবাব আদালতে জমা দিতে হবে। আদালতের বক্তব্য, এটিই শেষ সময়সীমা। এরপর আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। মামলাকারী বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাসও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জিতেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ৭ লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান তিনি। তবে সেই ফলাফলকেই চ্যালেঞ্জ জানান বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস। তাঁর অভিযোগ, এই জয় প্রকৃত অর্থে জনগণের গণতান্ত্রিক রায় নয়, বরং পরিকল্পিত কারচুপি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ফল। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “যদি জয়ের উত্তর সহজ হয়, তাহলে এক বছর পরও লিখিত জবাব কেন জমা দেওয়া যাচ্ছে না?”
আরও পড়ুনঃ Viral Video: কলেজ না বার! মাথায় গ্লাস, কোমরে ঠুমকা—তৃণমূল নেতার নাচ ঘিরে বিতর্কে ভৈরব গাঙ্গুলি কলেজ!
প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ১০ লক্ষ ৪৮ হাজার ২৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিজেপির অভিজিৎ দাস পান ৩ লক্ষ ৩৭ হাজার ৩০০ ভোট এবং সিপিএম প্রার্থী প্রতীক উর রহমান পেয়েছিলেন ৮৬ হাজার ৯৫৪ ভোট। বিরোধীদের দাবি ছিল, এত বড় ব্যবধানে জয় সম্ভব নয় স্বচ্ছ নির্বাচনে। ছাপ্পা ভোট-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই মামলার সূত্রপাত।





