TMC : দলেরই নেতার হাতে তৃণমূল নেতা খু*ন! জন্মদিনের পার্টিতে রক্তা*রক্তি কাণ্ড!

জন্মদিনের পার্টি মানেই আনন্দ-উৎসব, হইহুল্লোড়। কিন্তু সেই খুশির মুহূর্তই আচমকা রূপ নিল রক্তাক্ত কাহিনিতে। পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক সহকর্মী— সকলের চোখের সামনে ঘটে গেল এক ভয়ানক হত্যাকাণ্ড। এমনকি অভিযোগ উঠল, খুনি নাকি ছিলেন নিজেরই দলের নেতা! তৃণমূলের অন্দরেই তৈরি হওয়া এই সংঘর্ষ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা মালদহে।

ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের ইংরেজবাজারের লক্ষ্মীপুর এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে একটি জন্মদিনের নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা আবুল কালাম আজাদ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী শিউলি খাতুন-সহ আরও কয়েকজন। পার্টির মাঝেই আচমকা শুরু হয় গন্ডগোল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আবুল এবং তাঁর এক সময়ের ব্যবসা-সঙ্গী তথা তৃণমূল নেতা মাইনুল শেখের মধ্যে বচসা বাধে। বিবাদের মূল কারণ ছিল জমিজমা এবং আর্থিক লেনদেন। অভিযোগ, বিবাদ চরমে উঠতেই ঘরের দরজা বন্ধ করে আবুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন মাইনুল।

এই ঘটনায় শুধু আবুলের মৃত্যুই নয়, গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী শিউলি খাতুন-সহ আরও তিনজন। তাঁদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত মাইনুল শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দীর্ঘদিনের জমি ব্যবসা ঘিরে জটিলতা এবং পারস্পরিক সন্দেহ ছিল।

নিহত আবুল এবং অভিযুক্ত মাইনুল, দু’জনেই মালদহের মানিকচক ব্লকের গোপালপুরের বাসিন্দা। এক সময় জমির ব্যবসায় একসঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাইনুল একাধিকবার দলবদল করেছেন। এক সময় তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনে লড়লেও, পরে কংগ্রেসে যোগ দেন এবং সেখান থেকেই পঞ্চায়েত ভোটে জিতে ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বিশেষ যোগাযোগ ছিল বলেই তিনি আবার দলে ফিরে আসেন। এই দলে প্রত্যাবর্তন ও জমি সংক্রান্ত মুনাফা ভাগাভাগি নিয়েই দানা বাঁধে সংঘর্ষের জট।

মালদহ তৃণমূল ব্লক প্রেসিডেন্ট প্রতিভা সিংহ স্পষ্ট করে বলেন, “মাইনুলের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ থাকায় তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি।” তাঁর দাবি, কে বা কারা তাঁকে ফের দলে এনেছে, তা অজানা। অন্যদিকে, জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ঘটনা, দলের কেউ জড়িত নয়।” তবে বিজেপি নেতা অম্লান ভাদুড়ি এই ঘটনায় তৃণমূলের অপরাধ জগতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেই দায়ী করেছেন। তাঁর কথায়, “অবৈধ ব্যবসার মুনাফা ভাগাভাগি নিয়েই এই খুন।”

আরও পড়ুনঃ Abhishek Banerjee : শেষ অবধি কড়া সুর হাইকোর্টের! ১৯ আগস্টের মধ্যে জবাব দিতেই হবে অভিষেককে!

এই ঘটনায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, অবৈধ ব্যবসা, দলবদল রাজনীতি এবং দলের অন্দরের অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ— সবকিছুই ফের একবার সামনে চলে এল। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই খুনের জেরে মালদহ জেলার রাজনীতিতে যে তীব্র চাপানউতোর তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles