Fact Check: ভিডিও বিতর্ক! উরুগুয়ের টর্নেডোর পুরনো ভিডিওকেই ঘূর্ণিঝড় যশের ভিডিও বলে দাবী করল এবিপি আনন্দ

গতকালই সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ ওড়িশার ধামড়াতে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় যশ। নানান সংবাদমাধ্যমেই এই ঝড়ের প্রভাব, তাণ্ডবলীলার ভিডিও তুলে ধরা হয়। তবে বাংলা সংবাদমাধ্যমের সর্বশ্রেষ্ঠ চ্যানেল হিসেবে গণ্য করা এবিপি আনন্দের একটি ভিডিও ফুটেজ নিয়ে তৈরি হল বিতর্ক।

ফ্যাক্ট চেক করে দেখা গিয়েছে, গতকাল ওড়িশার ধামড়ায় যশ আছড়ে পড়ার সময় এবিপি আনন্দের পক্ষ থেকে যে ভিডিওটি দেখানো হয়েছে, তা আদতেও যশের ভিডিও নয়। তা হল ২০১৬ সালে উরুগুয়ের ডোলোরেসে হওয়া একটি টর্নেডোর ভিডিও।

এই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ঝড়ের প্রচণ্ড প্রভাবে মাটি থেকে গাছ উপড়ে যাচ্ছে, ঝড়ের এত গতিবেগ তা সবকিছু উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এবিপি আনন্দ কর্তৃক সম্প্রচারিত হওয়া তাদের বিকেলের খবরের বুলেটিনে ওড়িশার ধামড়ায় আছড়ে পড়া যশের এই জাল ভিডিওটি দেখানো হয়।

চার মিনিটের এই জাল ভিডিওতে ওই চ্যানেলের সঞ্চালককে বলতে শোনা যায়, “আমরা দেখতে পাচ্ছি যশের ওড়িশায় ধামড়ায় আছড়ে পড়ার মুহূর্ত। দেখুন কী ভয়ঙ্কর এই দৃশ্য! কীভাবে গাছ উপড়ে পড়ছে এবং তা ঝড়ের জেরে উড়ে যাচ্ছে। এটি হল যশের ল্যান্ডফলের মুহূর্ত। এইভাবেই ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে যশ”।

শুধু তাই-ই নয়, সেই সঞ্চালক প্যানেলিস্ট, বৈজ্ঞানিক পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে কিছু বলতে বলেন। পার্থসারথি মুখোপাধ্যায় বলেন, “আইএমডি –এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ঝড়ের গতিবেগ থাকার কথা ছিল ঘণ্টায় ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার। এই দৃশ্য সেই ঘটনারই জানান দিচ্ছে। ঝড় আছড়ে পড়ার সময় এমনই অবস্থা হয়েছিল। এটা একটা ভীষণ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়”। তাছাড়া, তিনি এও বলেন, যিনি এই ভিডিওটি তুলেছেন, তাঁকে কুর্নিশ।

এই একই ভিডিও গতকাল ফেসবুকে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। এর সঙ্গে ক্যাপশন জুড়ে দেওয়া হয়, “ওড়িশায় এই মুহূর্তে যশের ধ্বংসলীলা, কিছুক্ষণ পরই তা পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়বে”।

RELATED Articles