র্যাগিংয়ে অভিযুক্ত তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদত কমিটির রিপোর্টেও তারা দোষী। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে শোকজ করা হয়েছে তাদের। সেই নির্দেশের পাল্টা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে তারা। কিন্তু মামলা লড়ার যে টাকা নেই। সেই টাকা তুলতে এবার জিবি বৈঠক ডাকল র্যাগিংয়ে অভিযুক্তরা। টাকা চাওয়া হল সহ-আবাসিকদের থেকে।
ফের একবার চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হোস্টেল। এক বছর আগে এখানেই যৌন হেনস্থা ও র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে মৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর। ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয় সেই ঘটনায়। বর্তমানে কিছু পড়ুয়া ও প্রাক্তনী জেলবন্দি। কিছুজন আবার অভিযুক্ত। এবার সেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উঠল নতুন অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, গত রবিবার যাদবপুর ৮ বি বাসস্ট্যান্ডে যখন রাত দখলের কর্মসূচি চলছে, সেই সময় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হোস্টেলে জিবি বৈঠক ডাকা হয় র্যাগিংয়ে অভিযুক্তদের তরফে। সেখানেই তারা প্রস্তাব দেয় যে হাইকোর্টে আইনজীবীদের ফি বাকি। কিছু টাকা জোগাড় হয়েছে। বাকি টাকার জন্য আবাসিকদের কাছে টাকা চায় তারা।
আবাসিকরা এমন আবদারে স্তম্ভিত। আবাসিকদের বেশিরভাগই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে খবর। তাদের বক্তব্য, যাদের মামলা, তাদেরই টাকা মেটাতে হবে। একথা শুনে অভিযুক্তরা কিছুটা দমে ঠিকই তবে বলে, “পরে আলোচনা হবে”।
এদিকে এই দাবীতে অভিযুক্তরা জিবি বৈঠক ডেকেছে জেনে ডিন অফ স্টুডেন্ট হোস্টেল সুপারকে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেন। জিবি করতেও বারণ করেন। তবে জিবি আহ্বায়কদের কথায়, “কিন্তু আহ্বায়করা পাল্টা বলেন, “জিবি আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সেটা করতে কেউ বাধা দিতে পারে না”। এরপর জিবি বসে। সেখানে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার উপরে নজর রাখেন সুপার। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ভাস্কর গুপ্ত বলেন, “খবর পেয়ে যা যা করণীয়, তা আমরা করেছি। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি”।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জুটা-র সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “এটা খুবই দুঃখের যে র্যাগিংয়ে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না”। আবার ভিসির দাবী, “আইন অনুযায়ী দ্রুত শাস্তির জন্য যা যা করার, আমরা করছি”।
আরও পড়ুনঃ ভয়ঙ্কর কাণ্ড খাস কলকাতায়! চলন্ত বাসে শ্লীলতাহানির শিকার তরুণী, অভিযুক্তকে ধরে গণধোলাই ক্ষিপ্ত জনতার, ফের উঠল নারী সুরক্ষার প্রশ্ন
এসএফআই-এর রাজ্য সহ সভাপতি শুভজিৎ সরকারের অভিযোগ, “কতটা নৈরাজ্য এবং অপরাধের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হলে এতখানি সাহস পাওয়া যায়! এটা শাসকদলের মদত ছাড়া সম্ভব নয়”।
অভিযোগ অস্বীকার করে টিএমসিপি-র সহ সভাপতি সুদীপ রাহা বলেন, “রাত দখলের লড়াইয়ে এই র্যাগারদের নিয়ে তো এসএফআই মিছিল করছে। আমরা এদের সামাজিক ভাবে বয়কট করার পক্ষে”।





