আর জি করের ঘটনার আগে থেকেই তরুণী চিকিৎসকের উপর নজর রাখছিল সঞ্জয়, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল কার্যকলাপ

আর জি কর কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত এক সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। চলছে জেরা। এই সঞ্জয় রায় কী তরুণী চিকিৎসককে আগের থেকেই চিনত, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে যে ঘটনার আগের দিন থেকেই সে তরুণী চিকিৎসকের উপর বেশ নজর রাখছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ ৮ আগস্ট চেস্ট মেডিসিন ওয়ার্ডেই তরুণী চিকিৎসকের উপর নজর রাখছিল। বেলা ১১টার সময় ওই ওয়ার্ডেই ছিল সে। সেই সময় তরুণী চিকিৎসক ছাড়াও আরও ৪ জন জুনিয়র চিকিৎসক ছিলেন ওই ওয়ার্ডে। তাদের দিকে ‘হাঁ’ করে তাকিয়েছিল সঞ্জয়, এমনটাই দেখা গিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও সেমিনার হলে ব্লুটুথ হেডফোনের তারের ছেঁড়া অংশের সূত্র ধরেই সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার দিন রাত আড়াইটে থেকে ৩টে নাগাদ সঞ্জয়কে সেমিনার হলে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল। ৪৫ মিনিট পর বেরিয়ে আসে সে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল সঞ্জয়কে। আপাতত সে সিবিআইয়ের হেফাজতে। নজর রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছে সে।

তরুণী চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের যে রিপোর্ট মিলেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, তরুণী চিকিৎসকের মাথা, ঠোঁট, মুখ, হাত, ঘাড়, যৌনাঙ্গ একাধিক স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে। তাঁর উপর যে পাশবিক ও নারকীয় অত্যাচার করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট। যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীদের মতে, যে বা যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের প্রবৃত্তি হিংস্র পশুর মতো।

আরও পড়ুনঃ আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ রোখার চেষ্টা? স্কুলের বাইরে কোনও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া যাবে না, নির্দেশ রাজ্যের, ‘ভয় পাচ্ছে হীরক রানি…’, ফুঁসে উঠলেন শুভেন্দু  

সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্ট এখনও হয়নি। তবে যা মূল্যায়ন সামনে এসেছে, তাতে সঞ্জয় যে বিকৃত যৌনতায় আক্রান্ত, তা জানা গিয়েছে। আর তার এই বিকৃত মানসিকতা ধরা পড়েছে সাইকোমেট্রি টেস্টেও। ঘটনার রাতে সঞ্জয়ের যে কাজ করার কথা জানা গিয়েছে, তাতে এটা প্রমাণিত যে সে সুস্থ মস্তিষ্কের নয়। জানা গিয়েছে, তরুণী চিকিৎসকের উপর পাশবিক অত্যাচার চালানোর আগে পরপর দু’টি যৌনপল্লিতে গিয়েছিল সঞ্জয়। দু’জায়গাতেই ঝামেলা করার পর আর জি করে ঢোকে সে। সেই রাতেই অত্যাচার চালায় তরুণী চিকিৎসকের উপর।   

RELATED Articles