‘আমার মেয়ে হাসপাতালের অনেক কিছু জেনে ফেলেছিল, তাই ওঁকে মারতে সঞ্জয়কে সুপারি দেয়’, কোন সত্যি জেনেছিলেন তরুণী চিকিৎসক? জানালেন নির্যাতিতার মা

আর জি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবী তুলে রাজ্যের নানান প্রান্তে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। রাস্তায় নেমেছেন সকল স্তরের মানুষ। এমন আবহে এবার মৃতা তরুণী চিকিৎসকদের মায়ের দাবী, অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে কেউ সুপারি দিয়েছিল তাঁর মেয়েকে মেরে ফেলার জন্য।

আর জি করের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে সঞ্জয় রায়কে। তারপর এখনও পর্যন্ত কাউকে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়নি। তবে তরুণী চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের যা রিপোর্ট, তাতে বেশ স্পষ্ট যে এই ঘটনা কারোর একার পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। আর তা নিয়ে সরব হয়েছেন সকলেই।

 এরই মধ্যে নির্যাতিতার মা এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে দাবী করেন, তাঁর মেয়ে হাসপাতালের অন্ধকার দিকের বিষয়ে কিছু জেনে ফেলেছিল। সেই কারণেই খুন হতে হয়েছে তাঁকে। তিনি জানান, “আমাদের মেয়েকে মারার জন্য কেউ সঞ্জয়কে মোতায়েন করেছিল। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছু দেখছি। আর সহ্য হচ্ছে না। খালি মনে হচ্ছে, অত্যাচারের সময়ে মেয়ে আমার নিশ্চয় মা মা করে চিৎকার করেছিল… আমি তো শুনতে পাইনি”।

আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ কী কখনও ভয় দেখিয়েছিলেন তাঁর মেয়েকে, এমন কথা কী কখনও তরুণী চিকিৎসক জানিয়েছেন তাঁকে। সেই বিষয়ে নির্যাতিতার মা বলেন, “আমার মেয়ে সবসময় ভয় পেত, সন্দীপ ঘোষ ওকে এমডি পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেবেন। ওই দিন আমার মেয়ের শেষ কথা ছিল, খাবার এসে গেছে। ও বলেছিল, পরের দিন বাবার ওষুধের অর্ডার দিয়ে দেবে। পরের দিন রাতে বাইরে খেতে যাবে বলেও জানিয়েছিল”।

তাঁর কথায়, “ওরা (হাসপাতাল) কিছু লুকিয়ে রেখেছিল। আমরা যাওয়ার পরে প্রথমে আমাদের মেয়ের দেহও দেখায়নি। অনেক পরে দেখতে দিল। কেন ওরা আমাদের মেয়ের মুখ দেখাতে চার ঘণ্টা লাগাল? ওরা কি লুকোচ্ছিল ওই সময়ে”?

আরও পড়ুনঃ আর জি করের ঘটনার আগে থেকেই তরুণী চিকিৎসকের উপর নজর রাখছিল সঞ্জয়, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল কার্যকলাপ

মেয়ে খুবই পরিশ্রম করে বড় হয়েছে বলে জানান নির্যাতিতার মা। বলেন, “ও ৩৬ ঘণ্টা ডিউটি ​​করার পরেও পড়াশোনা করত। সেই সঙ্গে আরও চারটে অনলাইন কোর্স করছিল। কোভিডের সময় তো ও টানা চার দিনও ডিউটিতে থাকত পুরসভার একটা হাসপাতালে। ও আমাদের বলত, এমডি-তে গোল্ড মেডেল পেতে চায়। কিন্তু এখন তো মেয়েকে হারিয়েই ফেললাম। এখন যারা মেয়ের জন্য বিচার চেয়ে প্রতিবাদ করছে, ওরা সবাই আমার সন্তান”।

RELATED Articles