গত সোমবার কালীঘাটে ছিল তৃণমূলের কর্মসমিতির বৈঠক। এই বৈঠকে আলোচনা করে দলকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার জন্য তিনটি কমিটি গড়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদ, বিধানসভা ও দলীয় স্তরের জন্য তিনটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলির মধ্যে শুধুমাত্র সংসদ বিষয়ক শৃঙ্খলা কমিটিতেই নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষিতেই এবার বড় দাবী করলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী।
তৃণমূলের এই কর্মসমিতির বৈঠকে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সঙ্গে সঙ্গে দলের রদবদল নিয়েও আলোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের রদবদলের জন্য নামের তালিকার খসড়া মমতাকে আগেই দিয়েছিলেন অভিষেক। এর আগে দেখা গিয়েছে, তৃণমূলে অভিষেকের এমন সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সোমবারের বৈঠকে দেখা গেল অন্য ছবিই। নানান পদ থেকেই অভিষেক ঘনিষ্ঠদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিষেকের দেওয়া নাম অনুযায়ী রদবদল হয়নি। এর থেকেই বেশ স্পষ্ট ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দলের রাশ নিজের হাতেই রাখতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার এহেন সিদ্ধান্তের কারণেই এবার অধীরের অভিযোগ, অভিষেককে কোণঠাসা করতেই তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেককে ‘খোকাবাবু’ বলে সম্বোধন করে অধীর বলেন, “খোকাবাবুকে কোণঠাসা করতে শৃঙ্খলার নামে নতুন কমিটি গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”।
এই প্রসঙ্গে আবার তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেনের প্রসঙ্গও টানেন অধীর চৌধুরী। আগেই শান্তনু সেনকে দলের মুখপাত্রের পদ থেকে সরিয়েছে তৃণমূল। আবার সম্প্রতি তাঁর নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করেছে রাজ্য। এই বিষয়েই অধীরের দাবী, “আর জি কর কাণ্ডে শান্তনু প্রকাশ্যে দলের বিরোধিতা করেছিলেন। উনি অভিষেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত। তাই শান্তনুর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হল”। তাঁর কথায়, “এই তো শুরু। একে একে অভিষেক ঘনিষ্ঠ সকলকে কোতল করবেন দিদি”।
যদিও অধীরের মন্তব্যে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। তাদের আবার পাল্টা দাবী, অধীর নিজেই দলে কোণঠাসা। সেই কারণে হতাশা থেকেই এমন বক্তব্য রাখছেন তিনি। তবে শুধুমাত্র যে বিরোধী দলের নেতাই অভিষেককে কোণঠাসা করা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন তা নয়, এমন অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের অন্দরেও।
ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও অভিষেককে কোণঠাসা করা নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি কোনও যোগ্যতা নেই? কেন কেউ অভিষেককে কোণঠাসা করবে? কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে, আর সেটা কি আমরা মেনে নেব? বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর চারপাশে যাঁরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চাইছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ আগামী দিনে অন্ধকার হবে”। দলের লোকজনই এমন অভিযোগ তোলায় প্রশ্ন উঠছে যে সত্যিই কী অভিষেককে দলে কোণঠাসা করতে চাইছেন মমতা?





