রাজ্যে দুর্নীতির যেন অন্ত নেই। নানান সময় নানান দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে পুলিশের জালে আটক হয়েছেন নানান তৃণমূল নেতা। তবে এবার ছবিটা আলাদা। এবার কোটি কোটি টাকা প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার করা হল বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদককে। এই ঘটনায় বঙ্গ রাজনীতিতে বেশ হইচই পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তমলুকে। গতকাল, মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক নবারুণ নায়েককে। এই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তনুশ্রী রায় নায়েককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এম্ম ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বেশ অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।
জানা গিয়েছে, কলকাতার এক ঠিকাদার বিশ্বজিৎ দত্ত ও তাঁর সহযোগী ঠিকাদার ভাস্কর মণ্ডলকে কম্বল সরবরাহের দুটি আলাদা টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই বিজেপি নেতা নবারুণ নায়েক। তাঁর স্ত্রী তনুশ্রীও প্রতিশ্রুতি দেন যাতে টাকা ঠিকঠাকভাবে আসে। এই বলেই ওই দুই ব্যক্তির থেকে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা নেন নবারুণ ও তাঁর স্ত্রী।
কিন্তু অভিযোগ, সেই টেন্ডার পান নি ঠিকাদাররা। এভাবেই দুটি ভুয়ো টেন্ডার দিয়ে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন বিজেপি নেতা ও তাঁর স্ত্রী। প্রতারিতরা এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। এরপরই তমলুক পুলিশের তরফে গ্রেফতার করা হয় বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও তাঁর স্ত্রীকে।
পুলিশের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও নানান মাথা যুক্ত রয়েছে। এই টেন্ডার প্রতারণার সঙ্গে অসম সরকারের নামও জড়িয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা ও তাঁর স্ত্রী ছাড়াও অসমের বাসিন্দা দীপঙ্কর ধর-সহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম জড়িয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তবে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা নবারুণ নায়েকের দাবী, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠতেই এই নিয়ে তেড়েফুঁড়ে লেগেছে তৃণমূল। এই ঘটনা প্রসঙ্গে তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপিতে তোলাবাজ ভর্তি সেটা আমরা আগেই বলেছিলাম। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক”।





