‘আমি না হিন্দু হতে পেরেছি আর না মুসলিম…’, হারের পর কী রাজনীতি ছাড়ার পথে ৫ বারের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী?

বহরমপুরকে তিনি নিজের হাতের তালুর মতো চেনেন। তাঁর থেকে বেশি বোধ হয় ওই লোকসভা কেন্দ্রকে কেউ বুঝতে পারবে না। গত ৫ বারের সাংসদ তিনি বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের। কিন্তু এই প্রথমবার ওই কেন্দ্র থেকেই হারতে হল তাঁকে। এই হার একদিকে যেমন কষ্টের অন্যদিকে এই নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করলেন কংগ্রেস প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর কথায়, জাতপাত ও মেরুকরণের রাজনীতির কাছে হার হয়েছে তাঁর।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের কাছে। অধীরের দাবী, বাংলার রাজনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। মেরুকরণের রাজনীতি আসছে বাংলায়। যদিও এদিন হেরে গিয়ে ভোটে কারচুপির কোনও অভিযোগ করেন নি অধীর। পাল্টা তিনি বললেন, ভোট ভালোই হয়েছে।    

ফলাফল প্রকাশের পর সাংবাদিক বৈঠক করে অধীর বলেন, “জেতার জন্য কংগ্রেস এখানে কোনও ত্রুটি করেনি। তবে মানুষ মনে করেছে পরপর পাঁচবার জেতানোর পর এবার আর দরকার নেই। হেরে গিয়েছি। এর আগে মানুষ অনেক আশীর্বাদ ও দোয়া দিয়েছে। ইউসুফ পাঠানকে জয়ের শুভেচ্ছা। তবে আমি স্যান্ডউইচ হয়েছি। এখানে হিন্দু ভোট ভাগ হয়েছে। মুসলিম ভোটও ভাগ হয়েছে। আমি না হিন্দু হতে পেরেছি, না মুসলিম”।

তবে এদিন রাহুল গান্ধীর ভূয়সী প্রশংসা করেন অধীর চৌধুরী। দেশে কংগ্রেসের সার্বিক ফলাফল নিয়ে বেশ খুশি তিনি। বলেন, “রাহুল গান্ধী প্রমাণ করেছেন যে পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই’।

ভোটে হার নিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, “এতদিন অপরাজেয় ছিলাম, এখন পরাজিত। পৃথিবীর সব রাজনৈতিক নেতার জীবনেই পরাজয় ঘটে। ইন্দিরা গান্ধীকেও হারতে হয়েছে। মানুষ দয়া করেনি, দোয়া করেনি, আশীর্বাদ করেনি, আমি কী করতে পারি? তাই হেরেছি। সেই হারটাকে মেনে নেওয়া আমার রাজনৈতিক দায়িত্ব। আমি সেই দায়িত্ব পালন করে বলছি, মানুষ যা করেছে, ঠিক করেছে। আমি হেরেছি”।

ভোটের আগে অধীর বলেছিলেন, তিনি নিজের কেন্দ্র থেকে হেরে গেলে রাজনীতি ছেড়ে দেবে। এদিন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কী রাজনীতি ছাড়ছেন? উত্তরে অধীর বলেন, “যা করব জানিয়েই করব”।  

প্রসঙ্গত, এর আগে অধীরকে বারবার ‘বিজেপির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার অধীরের হার নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, “ওঁর ঔদ্ধত্যই এর জন্য দায়ী। আর উনি বিজেপির লোক। পাঠানকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ওঁকে আমরা আমন্ত্রণ করেছিলাম। উনি সেটা গ্রহণ করে মর্যাদা দিয়েছেন।’ মমতা বলেন, ‘আমি কংগ্রেসকে ২টো আসন দিতে চেয়েছিলাম। ওদের কোনও বিধায়ক নেই। তবে সেই ২টো আসনে তারা জিতে যেত। কিন্তু ওরা কথা শোনেনি”।

RELATED Articles