বাঙালির খুবই পছন্দের স্থান হল দিঘা। চেনা জীবনের বাইরে একটু রিল্যাক্স হতে দু-একদিনের জন্য দিঘায় চলে যান অনেকেই। আর সমুদ্রে স্নান তো আলাদাই একটা আনন্দ দেয়। কিন্তু এবার সেই সমুদ্রে স্নানেই জারি হল নিষেধাজ্ঞা। দিঘায় ঘুরতে গিয়েছেন, অথচ সমুদ্রেই স্নান করতে পারছেন না, এ যেন পর্যটকদের কাছে বড় শাস্তির সমান। কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ কর্তৃপক্ষ।
কেন এমন নিষেধাজ্ঞা?
দিঘায় সমুদ্রে স্নানে পথে কাঁটা দিঘার ঘাটের শ্যাওলা। দিঘার সমুদ্র ঘাট দেখলে মনে হবে যেন কেউ সবুজ কার্পেট পেতে দিয়েছে। এতটাই শ্যাওলা জন্মেছে ঘাটে। সেই শ্যাওলা ঘাটের উপরে দাঁড়িয়েই চলছে দেদার সেলফি নেওয়া, মজা, আনন্দ। কিন্তু সেখানে পা পিছলে পড়ে একটা অঘটন ঘটতে কিন্তু দেরি হবে না যদি না সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। আর পা পিছলে পড়লেই ধাক্কা খেতে হবে বড় বড় বোল্ডারে।
দিঘার ঘাটে এমন শ্যাওলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবী, প্রায় বছর তিনেক ধরে উৎপত্তি হয়েছে এই শ্যাওলার। প্রশাসনের নজরদারির অভাবের অভিযোগ তুলেছেন তারা। এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
ওল্ড দিঘার এক নম্বর ও দু নম্বর ঘাটে বিশেষ করে শ্যাওলার উপর হাঁটা ও স্নান করায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে খবর। সেই ঘাটগুলিতে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে আর কোনও পর্যটক যাতে সেই ঘাটে না যায়, সেদিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নুলিয়াদের। বেশ কিছু পর্যটক জোয়ারের সময় হাঁটতে গিয়ে এখানে পা পিছলে পড়ে গিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, শুধুমাত্র শ্যাওলা নয়, শ্যাওলার ভেতরে ব্লেডের মতো ধারালো ছোট ছোট ঝিনুকও রয়েছে। যা বিপদ আরও বাড়িয়েছে।
এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “শ্যাওলা এর আগেও ছিল। তবে এত পিচ্ছিল ঘন কার্পেটের মতো দেখতে শ্যাওলা দেখা যেত না। সব সময় জল থাকলে শ্যাওলা হবে তবে তা ৩৬৫ দিন জল জলের তলায় থাকলে এমন হওয়ার কথা। কেন হচ্ছে তা অবশ্য খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে”।
কী জানাচ্ছে প্রশাসন?
মহকুমা শাসক তথা দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান (মহকুমা শাসক কাঁথি) শৌভিক ভট্টাচার্য এই বিষয়ে বলছেন, “এই শ্যাওলা বিষয়টি পর্যটকদের কাছে বিপজ্জনক। পরিষ্কার করা হয় তবে সব সময় পরিষ্কার করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। যে কারণে ঘাট গুলিতে স্নান করা বা অবাধ চলাফেরা করা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে পর্ষদের পক্ষে। সচেতনতার জন্য আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মজুত রাখা হচ্ছে নুলিয়াদের”।





