আরও বিপাকে পার্থ! অযোগ্য প্রার্থীদের থেকে কয়েকশো কোটি টাকা নিয়ে চাকরি দিয়েছেন পার্থ ঘনিষ্ঠ প্রসন্ন রায়, বিস্ফোরক তথ্য ইডির

নিয়োগ দুর্নীতিতে অযোগ্য প্রার্থীদের থেকে প্রায় কয়েকশো কোটি টাকা তুলে চাকরি দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ মিডলম্যান বা এজেন্ট প্রসন্ন রায়। ২০১৬ থেকে ২০২১ সালে পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে ৩৯০টি সম্পত্তি কিনেছেন প্রসন্ন রায় ও তাঁর পরিবার মিলে। প্রসন্ন ও তাঁর স্ত্রী ও সংস্থার ২০০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে বলে জানাল ইডি।

এর আগে নিয়োগ দুর্নীতিতে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রসন্ন রায়। তবে সুপ্রিমকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন তিনি। গত সোমবার তাঁকে ফের তলব করে ইডি। এদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় প্রসন্ন রায়কে। গতকাল, মঙ্গলবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হলে তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন জানান। তবে সেই আবেদন খারিজ করে প্রসন্ন রায়কে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইডির হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রসন্ন রায় সম্পর্কে নানান বিস্ফোরক তথ্য আদালতে পেশ করেছে ইডি। এসএসসি-র আধিকারিকদের কাছে প্রসন্ন রায় ও তাঁর লোকজন চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা পাঠাতেন বলে অভিযোগ। আর প্রসন্ন রায় কাজ করতেন মিডলম্যান হিসেবে। চাকরিপ্রার্থীদের থেকে টাকা তুলতেন তিনি। সঙ্গে দুর্নীতির আরও মাথারাও ছিল।

জানা গিয়েছে, নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ৯৫২ জন চাকরিপ্রার্থীর উত্তরপত্র কারচুপি করা হয়েছিল আর ১৮৩ জন প্রার্থীকে প্যানেলের মেয়াদ ফুরনোর পর নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল। আবার, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ৯০৭ জন চাকরিপ্রার্থীর উত্তরপত্র কারচুপি হয়েছিল আর ৩৯ জন প্রার্থীকে প‌্যানেলের মেয়াদ ফুরনোর পর নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল।

ইডির তদন্তে দেখা গিয়েছে, মোট ২০৮১ জন অযোগ‌্য চাকরিপ্রার্থীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে নবম-দশম শ্রেণিতে ১১৩৫ জন ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯৪৬ জনকে বেআইনিভাবে চাকরি দেন প্রসন্ন রায়। তিনি ও তাঁর লোকেরা এই চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোট কয়েকশো কোটি টাকা তুলেছিলেন চাকরি দেওয়ার জন্য।

ইডি আদালতে জানিয়েছে, প্রসন্ন রায় ও তাঁর স্ত্রী কাজল সোনি রায়ের ৯০টি মতো সংস্থা রয়েছে। সেই সংস্থাগুলির মাধ্যমেই পাচার হয়েছে নিয়োগ দুর্নীতির টাকা। প্রসন্ন রায়ের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩৯০টি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে যা ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কেনা হয়েছে। প্রসন্ন রায়, তাঁর স্ত্রী ও তাদের সংস্থার নামে ২০০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে বলে দাবী ইডির। সেই অ্যাকাউন্টেই জমা হত দুর্নীতির টাকা। এই টাকার সূত্র সম্পর্কে প্রসন্ন রায়কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেন নি বলে জানায় ইডি। নানানভাবে কালো টাকা সাদা করেছেন প্রসন্ন রায়, এমনটাই দাবী ইডির।  

RELATED Articles