EXCLUSIVE: আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টে আর জি কর মামলা নিয়ে কী রায় দিতে পারেন প্রধান বিচারপতি? বিস্ফোরক তথ্য দিলেন আর জি কর মামলায় যুক্ত আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়!

আর জি কর কাণ্ড নিয়ে উত্তাল রাজ্য পরিস্থিতি। এই মামলায় তদন্ত করছে সিবিআই। প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলা উঠলেও পরবর্তীতে তা যায় সুপ্রিম কোর্টে। গতকাল, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের উপর যথেষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। আগামীকাল, বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। এদিনের শুনানিতে কী রায় দিতে পারেন প্রধান বিচারপতি? এই বিষয়ে খবর ২৪x৭-কে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন  আর জি কর মামলায় যুক্ত আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়।

আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টে আর জি কর মামলায় অন্তর্বর্তী রিপোর্ট পেশ করবে সিবিআই। কী থাকতে পারে সেই রিপোর্টে? আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, “আর জি করের ঘটনার অনেক প্রমানই তৃণমূলের গুণ্ডারা ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। তাই এই তদন্তে বড় বড় মাথা কতটা যে ধরা পড়বে তাতে আমার সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু সিবিআইয়ের উপর আমার বিশ্বাস আছে যে তারা সঠিক তদন্ত করতে পারবে। তবে প্রমাণ নষ্ট করা হলেও তদন্তে ভালোভাবে করা যায় বা দোষীদের শাস্তি দেওয়া যায়। তবে সেটা বেশ কঠিন”।  

তাহলে কী সঠিক বিচার পাবে না তিলোত্তমা? এত মানুষের এত প্রতিবাদ, আন্দোলন সব বিফলে যাবে? আইনজীবীর মতে, “আগের দিনের শুনানিতে আমরা কিছু ফল পেয়েছি সুপ্রিম কোর্টের থেকে। আশা করি, আগামীকালও সুপ্রিম কোর্ট দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক কিছু করবে। মানুষ যখন প্রশাসন বা সরকারের থেকে কিছু আশা করতে পারে না, তখন মানুষের শেষ ভরসা আদালতই হয়। যুগ যুগ ধরেই এটা হয়ে আসছে যে আদালতই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। আশা করি, এবারেও এর ব্যতিক্রম হবে না”।

সাধারণ মানুষ যে রাস্তায় নেমে এভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, এই ঘটনার প্রশংসা করেছেন আইনজীবী। তাঁর কথায়, “সিবিআই কী করবে সেটা তাদের উপর। আশা করি তারা প্রকৃত দোষীদের বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেবে। কিন্তু মানুষের মধ্যে যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তার জন্য আমার জনগণের কাছে প্রণাম। এই সচেতনতা থাকলে আমাদের যে দাবী যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে হবে পদ থেকে, সেদিকে আমরা এগোতে পারি।

অপরাধীদের আড়াল করতেই কী আইনজীবী কপিল সিব্বলকে এই মামলায় যুক্ত করেছে রাজ্য সরকার? এই প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলেন, “জনগণের করের টাকা দিয়েই রাজ্য সরকার সবসময়ই তদন্তে বাধা, সিবিআইকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। জনগণের টাকা খরচ করে তদন্তের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করা অন্যায়। যদিও এবারে রাজ্য সরকার তেমনটা করে থাকে, অত্যন্ত অন্যায় করেছে”।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার সামনে দিয়ে আমার মেয়ের দেহ টানতে টানতে নিয়ে গেল পুলিশ, ক্রিয়া-কর্মটুকুও করতে দেয়নি’, জানালেন নির্যাতিতার বাবা, কীসের এত তাড়া ছিল পুলিশের?

ঠিক কোন পথে এগোচ্ছে আর জি কর মামলা? দ্রুত এই মামলার মীমাংসা হবে তো? আইনজীবীর মতে, “এখনও পর্যন্ত হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট মিলিয়ে আমার যা মনে হচ্ছে, তদন্ত সঠিকভাবেই এগোচ্ছে। ভবিষ্যতে কী হবে দেখা যাক। কারণ প্রমাণ সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কীভাবে আসল দোষ প্রমাণ হয় বা আইনের মাধ্যমে কীভাবে দোষীদের সাজা দেওয়া হয়, সেটা কিছুদিন না গেলে আপাতত বোঝা যাবে না”।  

RELATED Articles