শনিবার কাকদ্বীপ পরিদর্শনে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তাঁর হতাশ উক্তি, “বুলবুলের ৬ মাসের মধ্যেই আম্ফানের তাণ্ডব কী ভাবে মোকাবিলা করব জানি না”। তাঁর কথায় দীর্ঘ দিন ধরেই এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়নি বাংলা।
আম্ফানের তাণ্ডবে গোটা রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্য। তাই এই ঝড়ের জন্য হওয়া ক্ষয়ক্ষতি কী ভাবে মোকাবিলা করা হবে অনেকটাই কঠিন। আম্ফানের প্রভাবে রাজ্যের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সম্পত্তিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেছেন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম সাহায্য করবে সরকার। কিন্তু ৬ মাস আগেই বুলবুল ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল রাজ্যের। তিনি বলে,ন ৬ মাস পরপর এত ক্ষতি কতটা সামাল দিতে পারব জানি না।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এমনিতেই রাজ্য প্রবল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় দাঁড়িয়েই আম্ফান পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু দিন পরে বর্ষার মরশুম শুরু হয়ে যাবে। তাই অবিলম্বে সেচ ও নদীবাঁধ মেরামতির পরামর্শ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এখনই বড় কোনও প্রজেক্ট হাতে না নিতেও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভেঙে পড়া মাটির বাড়িগুলি বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে নির্মানের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবকটি দফতরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যৌথ সমীক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।
আম্ফানের দাপটে প্রচুর গাছ পড়ে গেছে, নষ্ট হয়েছে পুকুরের জল। চাষের জমিও নষ্ট হতে বসেছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই সমস্ত কাজ ১০০ দিনের প্রকল্পের আওতায় আনতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ১০০ দিনের কাজে স্থানীয় ছেলেদেরও কাজ দিতে। কারণ তাতে আরও ভালোভাবে ও তাড়াতাড়ি কাজ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, পয়সা নেই, এমনিতেই কোভিডের ধাক্কায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। বেশি খরচ যাতে করা না হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। আবার যাতে ভেঙে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ১০০ দিনের কাজে বেশি করে লোক লাগাও। গাছ কাটা পুকুর পরিষ্কার করা চাষের জমি পরিষ্কার করা একশো দিনের কাজে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনকে।
পাশাপাশি তিনি বলেন ত্রাণ নিয়ে যেন কোনও সমস্যা না হয়। পাশাপাশি এলাকায় যেন রেশন সরবরাহ চালু থাকে। প্রয়োজনে কমিউনিটি কিচেনের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পানীয় জল সরবরাহের ওপরেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তার আগে বাড়ি মেরামতিতে বেশি করে জোর দিতে হবে। অর্থের অপচয় চলবে না বলেও সরাসরি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কাকদ্বীপের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যের পরই আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা দেয়। তাই প্রয়োজনী ওষুধ মজুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতরগুলিকে।





