‘রাতে এসে তুলে নিয়ে গেল’, মিডিয়ায় মুখ খোলার ‘শাস্তি’! সন্দেশখালির মহিলাদের সঙ্গে নির্মম আচরণ, মা’র’ধ’র, বাদ গেল না একরত্তিও

তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে বলা হয় সন্দেশখালির বাঘ। তিনি যদিও এখনও ফেরার। আর তাঁরই ঘনিষ্ঠ সাগরেদরা হলেন উত্তম সর্দার, শিবু হাজরা। আর তাদের বিরুদ্ধেই সুর চড়িয়েছেন গ্রামের মহিলারা। এত সহজে কী আর নিস্তার পাওয়া যায়! সুর চড়ানোর মাসুলও দিতে হল গুনে গুনে। ফের অত্যাচার মহিলাদের উপর।

হাতে বাঁশ, লাঠি নিয়ে শাহজাহান, উত্তম, শিবুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন তারা। জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন একাধিক পোল্ট্রি ফার্ম, বাগানবাড়ি। সংবাদমাধ্যমের সামনেও মুখ খুলেছিলেন তারা। জানিয়েছিলেন কীভাবে দিনের পর দিন শিবু, উত্তমদের মতো নেতাদের হাতে নিপীড়িত হচ্ছেন তারা। কীভাবে তাদের শ্লী’ল’তা’হা’নি, স’ম্মা’ন’হা’নি হচ্ছে দিনের পর দিন ধরে। কীভাবে তাদের রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া হত, সেসবের বিবরণ দিয়েছিলেন সন্দেশখালির মহিলারা সংবাদমাধ্যমের সামনে। এর ফল ভুগতে হল তাদের।

জানা গিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলায় রাতে তাদের বাড়িতে চড়াও হল গ্রামের শাসকরা। মহিলাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মেরে মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের। মুখে রক্ত জমাট বেঁধে কালশিটে পড়ে গিয়েছে। বছর খানেকের এক শিশুও রক্ষা পেল না এই নির্মম অত্যাচারের হাত থেকে। একদিকে যেমন সন্দেশখালিতে মহিলারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনই রাতের অন্ধকারে তাদের উপর অত্যাচার কিন্তু বজায় রয়েই গিয়েছে।

কিন্তু তবুও ফের সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে সেই সন্দেশখালির সরবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নিগৃহীতা। তিনি বললেন, “আমরা এর আগে সাহস পায়নি। এতগুলো বছর ধরে অত্যাচারিত হয়েছি। কিন্তু এখন যে আমরা মিডিয়ার সামনে মুখ খুলেছি, সেটা ওরা মেনে নেবে কেন”?

কোলে এক রত্তিকে নিয়েই ওই মহিলার অভিযোগ, “আমাদের ঘরের ব্যাটাছেলেদের মেরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের গ্রামে কোনও রাস্তা নেই, একটা ঘর পর্যন্ত নেই। মাটির ঘর কোনও রকমে বেঁধেছি। সেটাও ভেঙে পড়ছে। আমরা আবাসের কাগজপত্র সবই জমা দিয়েছি। কিন্তু কোথায় কী! গ্রামের একটা লোকও ঘর পায়নি। আর তার জন্য বলতে গেলে আমাদের রাতবিরেতে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করাচ্ছে লোক দিয়ে”।

এরপরই তারা ক্ষোভ উগড়ে দেন এলাকার সাংসদ নুসরত জাহানকে নিয়ে। বলেন, “আমাদের সাংসদ একজন মেয়ে। কিন্তু আমাদের সাহায্য করতে কেউ আসেন না। পুলিশের কাছে গেলে, পুলিশ ওই সব সন্ত্রাসবাদী শেখ শাহজাহান, উত্তম সর্দার, শিবু হাজরাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। ওরা আইনের ওপরে। আইন ওদের ওপরে নয়। আমাদের পাশে কেউ নেই। আমাদের এখান থেকে তাড়িয়ে দখল করতে চায় এলাকা”।

পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে তারা বলেন, “আমাদের এফআইআর জমা নেওয়া হয় না। আর জমা নিলেও সেটাকে নষ্ট করে দেওয়া হয়। ওরা পার্টিতে আসলে আবার অত্যাচার করবে আমাদের ওপরে”।

এদিন ওই নির্যাতিতা মহিলার সঙ্গে আরও অনেকেই এই একই অভিযোগ করলেন। কিন্তু এসবের মধ্যে কোথাও নেই এলাকার সাংসদ। গত কয়েকদিন ধরে সন্দেশখালি নিয়ে মুখ না খুললেও, গতকাল, সোমবার তিনি বলেন, “আমি সংসদের কাজে দিল্লি ছিলাম। ফিরে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। তবে প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। আমাদের কাজ উস্কানো হয়। আমাদের কাজ প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার, সেটা করছি”।

RELATED Articles