‘রেলের কত দুর্নীতিই তো ধরতে পারতাম, ধরিনি তার একটাই কারণ’, কী কারণে দুর্নীতি দেখেও চুপ ছিলেন মমতা?

রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিরোধীরা বারবার রাজ্য সরকারকে দুষে এসেছে। নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের শাসক দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর নাম জড়িয়েছে। মামলা হওয়ার পর অনেক চাকরিজীবীদের চাকরি গিয়েছে। অনেকের আবার চাকরি আটকেও রয়েছে। এমন আবহে এবার রেলমন্ত্রী থাকাকালীন রেলে যে সমস্ত দুর্নীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখেছেন, আর দেখেও চুপ ছিলেন, তা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

কেন দুর্নীতি দেখেও চুপ ছিলেন মমতা?  

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পদে ছিলেন। তিনি জানান, সেই সময় রেলের চাকরিতে অনেক দুর্নীতি দেখেছেন তিনি। কিন্তু দেখেও চুপ ছিলেন কিচ্ছু বলেন নি। কেন কিছু বলেন নি, সেই কারণের ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “রেলের কত দুর্নীতি ধরতে পারতাম। ধরিনি, কারণ একটাই। পেয়েছে তো চাকরি, পাক। চাকরিটা তো পাক। আর এই বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের মামলার জেরে চাকরি আটকে আছে। একটু মায়া–দয়া নেই? বেকার যুবক–যুবতীদের ভবিষ্যৎ নষ্টের জন্য চাকরি আটকাবেন না”।

মমতার কথায়, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের মামলার কারণে নিয়োগ আটকে রয়েছে। গতকাল, সোমবার আরামবাগে এক সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যে সরকারি চাকরিতে পাঁচ লক্ষ নিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মামলা করার জেরে আটকে গিয়েছে নিয়োগ। চাইলেও রাজ্য সরকার চাকরি দিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার কথায়, রাজ্য সরকার নিয়োগ করতে চাইলেই একটা কেস ঠুকে দেওয়া হচ্ছে, ফলে আটকে যাচ্ছে নিয়োগ। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরামবাগের সভা থেকে বলেন, “‌এবার তৈরি হচ্ছে শিল্প। চার পাশে চাকরি চাই, চাকরি! প্রায় এক লাখ শিক্ষক নিয়োগ হবে। অন্য দফতরেও হবে। কোর্টে যে কেউ যেতে পারে। মায়া–দয়া নেই। বেকার যুবক–যুবতীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে চাকরি আটকাবেন না। মামলা করে চাকরি আটকে আবার বলে দেখলে কেমন আটকে দিলাম। এটাই এদের চরিত্র। চাকরি পেলে একটি পরিবার একটু ভালো থাকতে পারে”।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। মামলা করে নিয়োগে বাধা দেওয়া অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। কারোর নাম না করেই এদিনের আরামবাগের সভা থেকে মমতা বলেন, “এত শিক্ষক নেওয়া হবে, পদ খালি আছে, আপনাদের জন্য নিতে পারছি না। কিছু শকুনি বসে রয়েছে! যেই একটু এগোচ্ছি, অমনি টুক করে একটা মামলা ঠুকে দিচ্ছে। আর হাসতে হাসতে বলছে, চাকরিটা করতে দেব না”।

RELATED Articles