‘টাকা নিয়ে পাশ করাত, টাকা চেয়ে ব্ল্যাকমেল করত’, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার

আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। আপাতত প্রতিদিন সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে এবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। সন্দীপের বিরুদ্ধে ইডি তদন্ত চেয়ে মামলার আর্জি জানান তিনি।

আখতার আলি জানান, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে টালা থানায় নালিশ জানাতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশ তাঁর এফআইআর নেয়নি বলে অভিযোগ। তাঁর কথায়, পুলিশ শুধুমাত্র লিখিত অভিযোগ জমা নিয়েছে। সেই কারণেই আজ, বুধবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আখতার আলি জানান, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আদালতের কাছে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ইডি তদন্ত চেয়ে আর্জি জানান আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের এজলাসে সেই মামলার অনুমতি মিলেছে বলে খবর।

আখতার আলি বলেন, “ডে ওয়ান থেকে ওঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। এক সময় ছাত্ররা ওঁর বিরুদ্ধে ভুক হরতাল করেছিল প্রায় একমাসের বেশি। কুকুরের মতো ছাত্ররা তাড়া করেছিল। টাকা নিয়ে উনি পাশ করাতেন। যাঁরা ওঁর ছাত্র ছিল তাঁরা বাকিদের অত্যাচার করত। খারাপ কেসে ফাঁসিয়ে দিত। ব্ল্যাকমেইল করত। পয়সা না দিলে এই করে দেব। ওই করে দেব এই সব বলত। একে সাসপেন্ড করে দ্রুত হেফাজতে নেওয়া”।

এই বিষয়ে বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, “বায়োওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট! অর্থাৎ ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ, স্যালাইন বোতল বা অক্সিজেন মাস্ক যেগুলো ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো তো নষ্ট করে দেওয়ার কথা? সেইগুলো ফের সাধারণ মানুষের শরীরে ব্যবহার করা হচ্ছে। কতটা বিপজ্জনক। এইচআইভি রোগীর জিনিস যদি সুস্থ লোকের শরীরে ব্যবহার করা হয় তাহলে কী হতে পারে ভাবতে পারেন”?

প্রসঙ্গত, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ২০২১ সাল থেকেই নানান অভিযোগ সামনে এসেছে। আর্থিক তছরুপ তো বটেই, এরই সঙ্গে মেডিক্যাল সরঞ্জাম নিয়ে কালোবাজারি, ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এমন নানান অভিযোগ উঠেছে সন্দীপের বিরুদ্ধে। আর এবার আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পড়ুয়া চিকিৎসকরা।   

RELATED Articles