পশ্চিমবঙ্গের সবক্ষেত্রেই যেন রাজনীতির রং এখন আরও বেশীমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বভারতীর শতবর্ষ অনুষ্ঠানেও লাগল রাজনৈতিক রং। একদিকে যখন তৃণমূলকে দোষারোপ করা হচ্ছে, বিশ্বভারতীর অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার জন্য, অন্যদিকে আবার তৃণমূলের তরফ থেকে পাল্টা দাবী করা হচ্ছে যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নাকি আমন্ত্রণই আসেনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীকে যে গত ৪ই ডিসেম্বরই আমন্ত্রনপত্র পাঠানো হয়, এর প্রমাণও দেওয়া হয় বিজেপির পক্ষ থেকে।
আজ, বৃহস্পতিবার বিশ্বভারতীর শতবর্ষ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বেশ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্যক্ত করেন কবিগুরুকে নিয়ে তাঁর আবেগ। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে দেখা মেলেনি মুখ্যমন্ত্রীর। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য একটি আমন্ত্রনপত্র টুইট করে বলেন, “বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে গত ৪ই ডিসেম্বরই মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কবিগুরুর সম্মানের থেকে পিসির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কাছে রাজনীতি বেশি বড়। এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী কবিগুরুকে এত বড় অপমান করেননি। নিজের সংকীর্ণ মানসিকতার জন্যই বাংলাকে অন্ধকারের পথে চালনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী”। তবে এই বিষয়ে তৃণমূলের সাফ জবাব যে এই অনুষ্ঠানের কোনও আমন্ত্রনপত্র আসেনি তাদের কাছে।
https://twitter.com/amitmalviya/status/1342011903506329600?s=19
এদিন বিশ্বভারতীর অনুষ্ঠানে গুজরাটের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কের কথা তোলেন মোদী। বলেন, “আমি যখনই কবিগুরুর কথা বলি, তখনই একটা কথাই মনে আসে আমার। গুজরাট ও রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কের কথা জানাচ্ছি আমি। আমাদের এটা বারবার ভাবা উচিত কারণ এতে আমাদের এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। ভাষা আলাদা হলেও সব বিশয়েই একে অপরের সঙ্গে জুড়ে থাকি আমারা। একে অপরের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি। কবিগুরুর দাদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন আইসিএসে ছিলেন, তখন তিনি আহমেদাবাদের নিযুক্ত ছিলেন। তখন মাঝে মধ্যেই কবিগুরু আহমেদাবাদে আসতেন। এখানে থাকাকালীন তিনি দুটি বাংলা কবিতাও লিখেছেন। ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর একটা অংশ তিনি গুজরাটে বসেই লিখেছেন”।
এই প্রসঙ্গে মোদী আরও বলেন যে, সত্যেন্দ্রনাথের স্ত্রী যখন আহমেদাবাদে থাকতেন, তখন তিনি সেখানকার মহিলাদের বাঁদিকে শাড়ির আঁচল করতে শিখিয়েছিলেন। তিনি তখন লক্ষ্য করেছিলেন যে সেখানকার মহিলারা শাড়ির আঁচল ডানদিকে করতেন। এর ফলে কাজকর্মে অসুবিধা হত। মোদীর কথায়, এভাবেই আমরা একে অপরের কাছ থেকে নানান বিষয় শিখতে পারি। কবিগুরু আমাদের এমন ভাবনার কথাই যে বলেছেন, এও সকলকে মনে করিয়ে দেন মোদী।






