অপপ্রচার বন্ধ করুন! বিশ্বভারতীতে রবীন্দ্রনাথের চেয়ারে বসিনি, বসেছিলেন নেহেরু! লোকসভায় প্রমাণ দিয়ে অধীরকে ধমক অমিতের

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র বিশ্বভারতী সফরের পর তাঁকে নিয়ে শুরু হয় জোর চর্চা। নেটদুনিয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়েন বিজেপি বিরোধীরা। ওঠে গেল গেল রব।

কি অপরাধ? অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ নাকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ারে বসে ভিজিটার্স বুকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। বহিরাগত এই নেতা কতটুকু সম্মান জানতে পারলেন বাংলার ঠাকুরকে শুরু হয় মাপামাপি!

একাংশের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, শাহ্ যে চেয়ারে বসেছিলেন, তা আদতে ‘ক্যাটেগরি- ২’ হিসেবে চিহ্নিত। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে সেই চেয়ার ব্যবহার করতেন না। স্রেফ অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চেয়ার-বিতর্কের রেশ পৌঁছে গেল লোকসভায়। অমিত শাহ্জি বাংলায় এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান করেছেন সেই বিষয়ে ‘দায়িত্ববান’ অধীর চৌধুরী লোকসভায় দাঁড়িয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে l

আর এবার কয়েকটি ছবি তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করলেন, শান্তিনিকেতন সফরে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ারে বসেননি। তিনি যেখানে বসেছিলেন, তা জানালার একটি অংশ। তাতে আগে অনেকেই বসেছেন। বরং রবি ঠাকুরের চেয়ার এবং সোফায় বসেছিলেন জওহরলাল নেহরু এবং রাজীব গান্ধীরা।

আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সংসদের নিম্নকক্ষে শাহ্ বলেন, ‘অধীররঞ্জন চৌধুরী ভাষণ দিচ্ছিলেন তাই আমি তখন তাঁকে আটকাইনি। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেছেন, আমি এবং আমার দলের সভাপতি (জে পি নড্ডা) বাংলায় যাই। আমরা গিয়ে বিশ্বভারতীতে গিয়েছিলাম। শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ারে বসে গিয়েছিলাম। খুব দায়িত্ববান ব্যক্তি তো। কিন্তু যেটা সত্য নয়, সেটা লোকসভার রেকর্ডে থাকা উচিত নয়। আমার দায়িত্ব হল যে যেটা সত্যি নয়, সেটা আপনার মাধ্যমে লোকসভায় সামনে নিয়ে আসি এবং দেশের সামনে পেশ করি।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছর ২০ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীতে এসেছিলেন শাহ্। সেই সময় একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দাবি করা হয়েছিল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সংরক্ষিত’ চেয়ারে বসে ‘ভিজিটর্স বুকস’-এ লিখছেন শাহ্। সেই ছবি ঘিরেই তৈরি হয় বিপুল বিতর্ক।
তার রেশ ধরেই মঙ্গলবার তিনি জানান, বিতর্কের মধ্যেই বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর থেকে জানতে চেয়েছিলেন তিনি কোন চেয়ারে বসেছিলেন। প্রত্যুত্তরে বিশ্বভারতীর উপাচার্য জানিয়েছেন যে শাহ্ একটি জানালায় বসেছিলেন। সেখানে সবাই বসতে পারেন। একইসঙ্গে কয়েকটি ছবির প্রিন্ট-আউট নিয়ে শাহ্ দাবি করেন, তাঁর আগে ওই চেয়ারে বসেছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারা।

তারপরই অধীরকে তীব্র আক্রমণ করেন শাহ্। সঙ্গে পালটা কংগ্রেসকেও খোঁচা দেন। বলেন, ‘আমরা যখন লোকসভায় কথা বলি, তার আগে তথ্য যাচাই করা উচিত। খুঁটিয়ে দেখা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু তুলে এখানে পেশ করলে সংসদের গরিমা নষ্ট হয়। তবে তাতে ওঁর দোষ দেখছি না। ওঁর দলের ইতিহাস, সেজন্যই ওঁর ভুল হয়ে গিয়েছে। আমি তো বসিনি ওই চেয়ারে। কিন্তু আমার দুটি ছবি আছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, শ্রী জওহরলাল নেহরু একটি চেয়ারে বসে আছেন। যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসতেন। এই ছবিটা রেকর্ড আছে। আর দ্বিতীয় ছবিটি হল রাজীব গান্ধীর। উনি ঠাকুর সাহেবের (টেগোর সাব) সোফায় বসে আরাম করে চা খাচ্ছেন। ওই কারণে ওঁর মনে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।’

RELATED Articles