রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে গণহত্যাকাণ্ডের পর আড়াই দিন কেটে গিয়েছে। আর আজ, বৃহস্পতিবার সেখানে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই সফর নিয়েও যথেষ্ট জলঘোলা হয়েছে। এদিন বগটুইয়ে গিয়ে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলির সামনে দাঁড়িয়ে মৃতদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। আর এরই মাঝে ঘটে গেল এক অনতিপ্রভ ঘটনা।
মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে নিজের ক্ষোভ ও শোক ধরে রাখতে পারেন নি গ্রামের এক বৃদ্ধ। এতেই রেগে যান অনুব্রত। শুরু হয় দোষারোপ ও পাল্টা দোষারোপের পালা। অনুব্রতর সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ। বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে অনুব্রতর মতো দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস রাখেন, এমন মানুষের সাক্ষী থাকল বগটুই।
কিন্তু এই বচসার মাঝেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চিকিৎসকরাই তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যান। তাদের শুশ্রূষায় পরে একটু সুস্থ বোধ করতে থাকেন ওই বৃদ্ধ। এমন ঘটনার জেরে ওই পরিস্থিতির তাল কাটে কিছুক্ষণের জন্য।
এইন বগটুই গ্রামে গিয়ে পুলিশের উপর বেশ ক্ষোভ বর্ষণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় রামপুরহাট ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন তিনি। মৃতদের পরিজনদের সান্ত্বনা দেন মমতা। মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা ও চাকরির বন্দোবস্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তবে মুখ্যমন্ত্রী গ্রামে গেলেও গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটে নি। মুখ্যমন্ত্রী চলে গেলে ফের গ্রামে সেই একই পরিবেশের সৃষ্টি হবে না, এমন আশঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয়রা। গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজির উপরেই। কিন্তু তাও যেন পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নন গ্রামবাসীরা।





