‘সব ষড়যন্ত্রীর নাম বলে দেব’, হুমকি বগটুই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আনারুলের, তবে কী সামনে আসবে প্রভাবশালীদের নাম?

বগটুই হত্যাকাণ্ডে চার্জশিট জারি করেছে সিবিআই। সেই চার্জশিটে উঠে এসেছে তৃণমূল নেতা আনারুল হোসেনের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে ১০৯ ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অপরাধে সাহায্য করা ও অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আনারুলের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে জেল হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় আনারুল কার্যত হুমকি দিয়ে বলেন যে বগটুই কাণ্ডে সমস্ত ষড়যন্ত্রীদের নাম তিনি ফাঁস করে দেবেন।

এর আগেও আনারুল দাবী করেছেন যে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। আর আজ, বৃহস্পতিবার পুলিশের গাড়িতে করে জেলে যাওয়ার সময় আনারুল বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে আমার বাড়ি পাঁচ কিলোমিটার দূরে। তার মধ্যে চক্রান্ত রয়েছে। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। সময় এলে সবার নাম বলব”। এই সবার নাম বলতে কাদের কথা বলতে চেয়েছেন তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।

সিবিআই চার্জশিট জমা দেওয়ার পর আনারুলের এহেন মন্তব্য যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর আগেই তিনি একাধিকবার বলেছেন যে তাঁকে এই কাণ্ডে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি এও বলেন যে এই ঘটনার সঙ্গে অনেক প্রভাবশালীরা জড়িয়ে। তবে কী এবার সেই প্রভাবশালীদের নাম সামনে আসবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে জল্পনা।

সিবিআইয়ের দাবী, ভাদু শেখ যে রাতে খুন হয়, সেই রাতেই বগটুইয়ের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। সেই সময় গ্রামবাসীরা আনারুলকে ফোন করে বিষয়টি জানান ও পুলিশে খবর দিতে বলেন, কিন্তু সেকথায় কোনও আমলই দেন নি আনারুল। বরং তিনি দাঁড়িয়ে বাড়িগুলি আগুনে পুড়ে যেতে দেখেন। পুলিশকেও গ্রামে ঢুকতে বাধা দেন বলে দাবী।

তদন্তকারীদের মতে, আনারুলের এহেন ভূমিকার জন্যই এত বড় হত্যাকাণ্ড ঘটে। আনারুল যদি গ্রামবাসীদের কথা শুনে সঠিক সময়ে পুলিশে খবর দিতেন, তাহলে বগটুইয়ের ঘটনা ঠেকানো যেত বলে দাবী করেন গ্রামবাসীদের একাংশও।

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুনের পর একের পর এক বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। জীবন্ত পুড়ে মৃত্যু হয় ১০ জনের। এরপর ওই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া যায় সিবিআইয়ের কাছে। তদন্তভার নেওয়ার প্রায় তিন মাসের মধ্যে গত সোমবার ভাদু শেখ হত্যা মামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মুখবন্ধ খামে চার্জশিট পেশ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর সেই চার্জশিটে নাম উঠে আসে আনারুলের।

RELATED Articles