গত দু’বছর করোনা অতিমারির কারণে কলকাতার ইসকনের মন্দিরে পালিত হয়নি রথযাত্রা উৎসব। তবে এই বছর বেশ ধূমধাম করেই পালন করা হবে রথযাত্রা উৎসব। আগামীকাল, শুক্রবার ইসকনের মন্দিরের সামনে রথের দড়িতে প্রথম টান দিয়ে এই উৎসবের শুভ সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনটি আলাদা রথে চড়বেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা।
প্রতি বছরই ইসকনের মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষ্যে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। তবে গত দু’বছর করোনা অতিমারির কারণে রথযাত্রা উৎসব পালন হয়নি ইসকনের মন্দিরে। তবে এই বছর তা হবে মহাসমারোহে। আর এই কারণে এখন কলকাতার ইসকনের মন্দিরে বেশ সাজো সাজো রব।
আগামীকাল, রথযাত্রার দিন ইসকন মন্দির থেকে রথ বেরিয়ে হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট, এজেসি বোস রোড, শরৎ বোস, হাজরা, এস পি মুখার্জি রোড, চৌরঙ্গি, এক্সাইড, জহরলাল নেহরু রোড, আউট্রাম রোড হয়ে ব্রিগেডে যাবে। সেখানে উল্টোরথ অর্থাৎ ৯ জুলাই পর্যন্ত থাকবেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে এই আটদিন ধরে ব্রিগেডে মেলা চলবে। এরপর উল্টোরথের দিন আবার ইসকনে ফিরে আসবে তিনটি রথ।
গত বছর কলকাতার ইসকনের মন্দিরের রথযাত্রার পঞ্চাশতম বর্ষ ছিল। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে বড় করে কোনও উৎসব করা হয়নি। তাই এই বছর বেশ ধূমধাম করেই পালন হবে ইসকন মন্দিরের রথযাত্রা। নানান দেশ থেকে ভক্তরা আসছেন। তারা প্রতিদিন ভোগ রান্না করবেন। সেই ভোগ প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হবে ব্রিগেডে সাধারণ ভক্তদের মধ্যে। প্রতিদিন চলবে পুজো, গান, কীর্তন।
অন্যদিকে, মায়াপুরের ইসকন মন্দিরেও রথযাত্রা উপলক্ষ্যে বেশ সাজো সাজো রব। সমস্ত করোনাবিধি মেনেই আয়োজন করা হয়েছে উৎসবের। রথযাত্রার দিন মায়াপুরের থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে রাজাপুর গ্রামের জগন্নাথ মন্দির থেকে তিনটি আলাদা আলাদা রথে চড়ে মায়াপুরের চন্দ্রোদয় মন্দিরের অস্থায়ী গুণ্ডিচায় মাসির বাড়ি আসবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা।
এরপর উল্টোরথ পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। নানান পদের খাওয়া-দাওয়া সারবেন তারা। সেই ভোগ প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হবে ভক্তদের মধ্যে। ভক্তদের সমাগমের কথা মাথায় রেখেই মায়াপুরে যাওয়ার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর আর্জি জানানো হয়েছে ইসকন মন্দিরের কর্তৃপক্ষের তরফে।






