এর আগে উদ্ধার হয়েছিল সারনাথের মূর্তি। এবার উদ্ধার হল জৈন ধর্মের পার্শ্বনাথের মূর্তি। নদী থেকে উদ্ধার হয় শতাব্দী প্রাচীন এই জৈন মূর্তি। পুরুলিয়ার গোলমারা অঞ্চলের বরুয়াডি নদী থেকে এই প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার হয় বলে খবর।
জানা গিয়েছে, গতকাল, সোমবার সকালে নিজের জমির দিকে যাচ্ছিলেন এক চাষি। নদীতে হাত-মুখ ধুতে গিয়েছিলেন তিনি। জলে নামতেই তিনি লক্ষ করেন একটি মূর্তি ভেসে উঠেছে। কষ্টিপাথরের একটি মূর্তি সেটি। মূর্তি দেখা মাত্রই আশেপাশের লোকজনদের ডাকেন তিনি।
মূর্তিটি নদীর পলিমাটি থেকে তুলে গোলমারা ভৈরব স্থানে রাখা হয়। এই মূর্তির মস্তকে সর্পছত্র রয়েছে । এছাড়া মূর্তির দুই পাশে দুই চামর ব্যঞ্জনকারী আছে। মূর্তির ওপরে মালা হাতে দুই গন্ধর্ব ও গন্ধর্বি রয়েছে। এছাড়া মূর্তির দু’পাশে চারজন করে আটজন জৈন যক্ষ ও যক্ষিণী আছে।
জানা গিয়েছে, এই মূর্তি নবম থেকে দশম শতাব্দীর। আনুমানিক ১,২০০ বছর আগের। লোকসংস্কৃতি গবেষক ও পুরাকৃতি নিয়ে কাজ করা মানুষজনের কথায়, এই মূর্তির আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্য ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। পুরুলিয়া দু’নম্বর ব্লক প্রশাসন ও পুরুলিয়া মফস্বল থানার পুলিশ ওই মূর্তিটি উদ্ধার করে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষমেশ তা ব্যর্থ হয়।
পুরুলিয়া জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী বলেন, “একটি পুরাকৃতির খোঁজ মিলেছে। পার্শ্বনাথের মূর্তি বলেই মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে যথোপযুক্ত জায়গায় জানানো হয়েছে। মূর্তিটি দুর্মূল্য। কার্বন ডেটিং টেস্ট ভীষণই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে”।
এই জৈন মূর্তি উদ্ধারের ঘটনায় পুরাতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি গবেষক তথা জৈন সংস্কৃতি সংরক্ষক উপাধি পাওয়া সুভাষ রায় বলেন, “এটা জৈন ২৩ তম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ। কায়োৎসর্গ মুদ্রায় দাঁড়িয়ে আছেন। এই পুরুলিয়া জৈনভূমি। ফলত অতীতেও এমন মূর্তি মিলেছে। তবে এই মূর্তিটির শিল্পশৈলী দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য অনেক বেশি। আমরা চাই এই পুরাকীর্তিটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করুক রাজ্য সরকার। কোনভাবেই যাতে অবহেলায়, অনাদরে পড়ে না থাকে”।





