পুজোর আগেই জেল থেকে ফিরেছেন। গত ২ বছর ধরে পুজোটা তিহাড় জেলে কাটালেও এবারের পুজোটা নিজের জায়গা বীরভূমেই কাটিয়েছেন তিনি। বিজয়া সম্মিলনী থেকে দলের কাজে যোগ দেন অনুব্রত মণ্ডল। তবে এবার তৃণমূলের পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
২০২২ সালে গরু পাচার কাণ্ডে বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়ি থেকে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বারবার অনুব্রতর পাশে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু খুন আশ্চর্যজনকভাবে জেল থেকে ফিরে একবারও নিজের প্রিয় ‘দিদি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি তাঁর ‘কেষ্ট’র। কোনও কারণে কী দূরত্ব বেড়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। এরই মধ্যে অনুব্রতর তৃণমূলের পদ ছাড়ার ইঙ্গিত এল।
গতকাল, সোমবার সিউড়ির ২ ব্লকের পুরন্দরপুরের মাঠে বান্ধব সমিতির সভা করেন অনুব্রত মণ্ডল। সিউড়ি ২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নুরুল ইসলাম অনুব্রতর বেশ কাছের বন্ধু। তারা একই সময়ে রাজনীতির ময়দানে এসেছিলেন। একইসঙ্গে আন্দোলন চালিয়েছেন। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন এই নুরুল ইসলাম।
তবে জানা গিয়েছে, ব্লক সভাপতির পদ ছাড়তে চেয়ে তিনি কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি দিয়েছেন। গতকালের সভায় সেই নিয়ে মুখ খোলেন অনুব্রত। বলেন, “বন্ধু নুরুল, ২০২৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে জেলা সভাপতি পদ থেকে আমি সরে দাঁড়াব। তখন তুমিও ব্লক সভাপতি পদ ছেড়ে দিও”।
আরও পড়ুনঃ ‘মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া ছাত্রীদের কী কী প্রস্তাব দেওয়া হয় তা বললে মহিলা হিসেবে আপনি মুখ দেখাতে পারবেন না’, বৈঠকে জানালেন জুনিয়র চিকিৎসকরা
অনুব্রতর এই কথাই যেন বজ্রপাতের মতো এসে পড়ে তাঁর অনুগামীদের মধ্যে। শুরু হয়ে যায় প্রবল জল্পনা। জেলা রাজনীতি তো বটেই, রাজ্য রাজনীতিতেও এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। এর আগে লোকসভা নির্বাচনের সময় অনুব্রত বীরভূমে না থাকলেও বীরভূমের ফলাফল ভালোই হয়েছে। তবে এবার তৃণমূল জেলা সভাপতির পদ থেকে তাঁর এভাবে সরে আসার ইঙ্গিত এমনটাই প্রশ্ন তুলছে যে তিনি কী শুধু পদই ছাড়বেন নাকি দলকেও বিদায় জানাবেন?





