পাকা রাস্তা চাইতে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের থেকে কড়া ধমক খেলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি! কর্মী সভায় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা

যত দোষ বাম ঘোষ নয়তো রাম ঘোষ! তৃণমূলের এখন বক্তব্য এটাই। এবার বীরভূমের (Birbhum) তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandal) মন্তব্য এরকমটাই প্রতিষ্ঠাত করল! সিউড়ির (Suri) মাঝিপাড়ায় একটি কর্মীসভায় এক ব্লক সভাপতি নিজের এলাকার পাকা রাস্তা চেয়ে রীতিমতো নিগ্রহের (Harassment) মুখে পড়লেন, সৌজন্যে অবশ্যই অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)।

আজ দু’নম্বর পুরন্দরপুর ব্লকে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দের নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল একটি কর্মীসভার আয়োজন করেন। সেখানে সিউড়ির মাঝিগ্রামের তৃণমূল ব্লক সভাপতি গণেশ রায় (Ganesh Roy) নিজেদের গ্রামের প্রধান রাস্তা পাকা করার দাবি করলে সেখানে অনুব্রত মণ্ডল  (Anubrata Mandal) রীতিমতো ক্ষুব্ধ ভাষা জবাব দেন “গত ৩৪ বছরে রাস্তা ভালো ছিল? আমরা এসেছি তো নয় বছর হল তার আগে কি রাস্তা ভালো ছিল?” স্বাভাবিকভাবেই অত লোকের মাঝে গণেশ বাবু হকচকিয়ে যান কিন্তু পরমুহুর্তেই তিনি স্পষ্ট গলায় বলেন, “আগে তাও সাইকেল চালানো যেত, এখন কিছুই যায় না।” এতেই রীতিমতো মেজাজ হারিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দেন চিরপরিচিত কেষ্ট‌ তথা অনুব্রত মণ্ডল। “আপনি তো এরকম করলে এলাকায় ভোট করাতে পারবেন না। আপনি কন্যাশ্রী, যুবশ্রী পেয়েছেন? দু টাকা কিলো দরে চাল পেয়েছেন?” অনুব্রত চোখা প্রশ্নবাণে গণেশ রায় ভীত না হয়ে উত্তর দেন, “এইসব পেয়েছি কিন্তু আমাদের রাস্তাঘাট দরকার, পানীয় জল দরকার, রাস্তায় আলো দরকার।”

এতেই অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) ক্ষিপ্ত হয়ে এই ব্লক সভাপতিকে(Block President) দল থেকে বিতাড়নের নির্দেশ দিয়ে বসেন। এরপরেই গণেশ রায়ের অনুগামীরা সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং বাইরে বেরিয়ে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বীরভূমের জেলা সহ-সভাপতি অভিজিৎ সিংহ রায় এবং অন্য শীর্ষ নেতা নুরুল ইসলাম সহ বাকিরা মঞ্চ থেকে নেমে এসে অনুগামীদের বুঝিয়ে আবার কর্মীসভার ভেতরে পাঠান।

পরবর্তীকালে অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেন যে, এটা দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার এবং গোটা ঘটনাটি মিটে গিয়েছে। এই নিয়ে অযথা বিতর্ক করার দরকার নেই। যদিও বিরোধীদের বক্তব্য তৃণমূলের সংস্কৃতি এরকম। যেখানে অনুব্রত মণ্ডল নিজে বলেছিলেন, উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে সেখানে উন্নয়ন জলে ভেসে গেলেও প্রশ্ন করা হয় যে বাম আমলে কী হয়েছিল? ৩৪ বছরের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থেকে এখনো পর্যন্ত বেরোতে পারেনি মমতা সরকার, নতুন দোসর হয়েছে বিজেপিকে দোষারোপ! যেভাবে দলের নেতাকর্মীদের হেনস্থা করছেন দলের উচ্চপদস্থ কর্তারা তাতে যে আগামী বছর নির্বাচনে ভোট বৈতরণী পার করা মমতা সরকারের পক্ষে বেশ কঠিন একথা বলাই বাহুল্য!

RELATED Articles

Leave a Comment