২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) কে লোকসভায় মসনদে বসানোর পেছনে ছিল তার ক্ষুরধার রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি। প্রচার পরিকল্পনায় প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) সেরা। এবার তিনি শিবির পাল্টেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে। ইতিমধ্যেই তিনি বিরোধী দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা-নেত্রীদের তৃণমূলে আসার ডাক দিয়ে সততার প্রতীক হিসাবে দলকে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। যদিও বাম নেতাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে পিকের দলকে।
মুকুল রায় (Mukul Roy) কে একসময় বলা হতো তৃণমূলের চাণক্য। সেই চাণক্যকে বহুদিন আগেই অপমান করে বিকৃত করেছে সবুজ শিবির। এখন মুকুল রায় বিজেপি তে সসম্মানে বিরাজ করছেন। মুকুল রায় (Mukul Roy) এর অভাব পূরণের জন্য দলে নিয়ে আসা হয়েছে প্রশান্ত কিশোরকে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। একুশে জুলাই এর ভার্চুয়াল সম্মেলন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দলছুট হয়ে তাদের দলে ফিরিয়ে নিয়ে আসার ডাক দিয়ে ফেলেছিলেন। এরপর মাঠে নামেন প্রশান্ত কিশোর ও তার টিম।
অল্প কয়েকজন ফিরে এলেও বিরোধীদলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা-নেত্রীরা প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেছেন পিকের টিমকে। মূলত সিপিএম (CPIM) নেতাদের প্রস্তাব দেওয়া শুরু হয়েছে এখন। দেবেশ দাস সহ অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বাম নেতা মন্ত্রীরা পত্রপাঠ বিদায় করে দিচ্ছেন পিকের ছেলেপুলেদের। সুজন চক্রবর্তী অবশ্য কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন যে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোর সিপিএমের কাছে বারবার দ্বারস্থ হচ্ছেন তার থেকে নাকি প্রমাণ হয় যে সিপিএম সবচেয়ে স্বচ্ছ পার্টি!
কিন্তু রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এর পেছনে পিকের অন্য কোনো মতলব কাজ করছে। কারণ তৃণমূলের (TMC) অন্যতম শত্রু সিপিএম। সেখানে সিপিএম নেতা মন্ত্রীদের কাছে ফোন যাওয়া মানে পরোক্ষভাবে মানুষের কাছে এটাই প্রমাণ করা যে সিপিএমে এখনো স্বচ্ছ নেতা মন্ত্রী রয়েছেন। এটা তৃণমূল কী করে হতে দিতে পারে? তাই আরেকটি সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে রাজনৈতিক মহলে যে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে (Bengal Election) বিজেপি (BJP) কে আটকানোর জন্য মরিয়া হয়ে তবে কি সিপিএমের সঙ্গে আঁতাত করতে চাইছে তৃণমূল? সিপিএমের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার প্রয়াস রয়েছে প্রশান্ত কিশোরের। শুধু তৃণমূলের সংগঠন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এটা নয়। মূলত বিজেপির ভোট কেটে নেওয়াই তৃণমূলের উদ্দেশ্য মনে করা হচ্ছে, তাতে নিজেদের ঝুলি শূন্য হলে হোক এমনই একটা কানাঘুষো সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বাংলায় বিজেপি বেশির ভাগ ভোট পেয়েছে তাদের থেকে যারা আগে সিপিএমকে ভোট দিত। সে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন হোক বা ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন। তাই যদি সেই ভোটগুলো সিপিএমে ফিরিয়ে আনা যায় তাহলে বিজেপিকে চাপে ফেলা যাবে বলে মত তৃণমূলের। সিপিএম ও কংগ্রেস এমনিতেই নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ফেরানোর জন্য তীব্র লড়াই চালাচ্ছে। এই অবস্থায় প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) অফার তাদের কাছে লোভনীয় লাগতেই পারে। কিন্তু তাতে সিপিএমের কতটা লাভ হবে সেই নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।





