তিহাড় যাত্রা আটকাতে বেশ মরিয়া হয়ে উঠেছেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। এর আগে তো দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছিলেনই কেষ্ট। এবার আসানসোল সিবিআই আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েও কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল নেতা। এই জোড়া মামলার জেরে এবার কেষ্টর দিল্লি যাত্রা বেশ অনিশ্চয়তার মুখেই পড়েছে।
গত ৯ ডিসেম্বর অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরা করার নির্দেশ দেয় রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। কিন্তু সেই সময় একটি পুরনো মামলায় অনুব্রতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় দুবরাজপুর থানা। সেই অনুমতিও দেয় দুবরাজপুর আদালত। এরপরই আসানসোল থেকে কেষ্টকে দুবরাজপুর নিয়ে চলে যায় পুলিশ। ফলে আটকে যায় কেষ্টর দিল্লি যাত্রা। এই ঘটনা নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়।
দু’দিন আগেই দিল্লি রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের তরফে ইডি-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে গরু পাচার মামলায় ধৃত অনুব্রত মণ্ডলকে কেন দিল্লি নিয়ে এখনও জেরা করা হচ্ছে না? সেই সময় ইডি জানায় যে অনুব্রত দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছেন। কিন্তু রাউস অ্যাভিনিউ আদালত জানায় যে দিল্লি হাইকোর্ট এখনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। তাই কেষ্টকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া যেতেই পারে। এরপরই আসানসোল সিবিআই কোর্টে আর্জি জানায় ইডি। আর এবার আদালত অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল যে আজ, শুক্রবারই দিল্লি নিয়ে যাওয়া হবে অনুব্রতকে। কিন্তু এদিন সকাল থেকেই কোনও তোড়জোড় দেখা গেল না আসানসোল জেলে। এমনকী ট্রেন না বিমান, কীসে করে অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হবে, তাও জানা যায়নি।
অনুব্রতর দিল্লি যাত্রা আটকাতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর আইনজীবী। আসানসোল আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করা হয়েছে হাইকোর্টে। আজ বেলা ৩ টের সময় সেই মামলার শুনানি রয়েছে। আবার দিল্লি হাইকোর্টেও মামলা করা হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ কী তবে হাইকোর্টের নির্দেশের অপেক্ষায়? সেই কারণেই কী অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রস্তুতি দেখা গেল না, এমনই প্রশ্ন উঠেছে ওয়াকিবহাল মহলে।





