অবশেষে নিজের নিচুপট্টির বাড়িতে ফিরলেন বীরভূমের বেতাজ বাদশা। দু’বছর পর ঘরের ছেলের ঘরে ফেরায় উৎসবের মেজাজে বীরভূমবাসী। উলু-শঙ্খধ্বনি-সবুজ আবির দিয়েই নিজেদের প্রিয় কেষ্টডাকে বরণ করলেন তারা।
গত দু’বছর দুর্গাপুজোয় বীরভূমে ছিলেন না অনুব্রত মণ্ডল। ২০২২ সালে গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। সেই থেকেই তিনি জেলে। অবশেষে গত শুক্রবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে জেলমুক্তিতে খানিক দেরি হয়।
গতকাল, সোমবার রাতে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। মঙ্গলবারের ভোরের বিমানে এসে পৌঁছন কলকাতা। সেখান থেকে গাড়ি করে সোজা বীরভূম। অনুব্রতর সঙ্গেই ছিলেন তাঁর সদ্য জামিন পাওয়া মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলও। এদিন বীরভূমে ভোর থেকেই শুরু হয় জমায়েত। দু’বছর পর প্রিয় কেষ্টকে দেখতে পেয়ে যেন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে বীরভূমবাসী। ঢাক, ঢোল, উলু, শঙ্খধ্বনি, ঝঙ্কার তাসায় যেন উৎসবে মেতেছে গোটা ‘কেষ্টভূম’।

এদিন অনুব্রত মণ্ডল বাড়িতে ফিরতেই তাঁকে দেখার জন্য বাড়ির সামনে উপচে পড়ে তাঁর অনুগামীদের ভিড়। স্লোগান ওঠে ‘অনুব্রত মণ্ডল জিন্দাবাদ’। যেদিন অনুব্রত ফিরলেন সেদিনই আবার বীরভূমে প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অনিব্রত গ্রেফতারির পর থেকেই বারবার তাঁর সমর্থনে কথা বলেছেন মমতা। এদিনই কী তবে দিদির সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে তাঁর প্রিয় কেষ্টর? এই প্রশ্ন করা হলে অনুব্রত বলেন, “শরীর যদি ভালো থাকে। দিদি ভালো থাকুক, দিদির জন্য আমি আছি, বরাবরই থাকব”।

বলে রাখি, অনুব্রত মদলের জামিন মঞ্জুর হওয়ার খবর মেলার পর থেকেই বীরভূমে বেশ ব্যস্ততা দেখা যায়। শুরু হয় তাঁর সিউড়ি দলীয় কার্যালয়ের পরিষ্কারের কাজ। অনুব্রতর নামের ফ্লেক্স বসানো থেকে শুরু করে তাঁর নামাঙ্কিত বোর্ড লাগানো, কার্যালয়ে অনুব্রতর ঘর সাজানো সবই করেন তাঁর অনুগামীরা। অনুব্রতর জামিনের খবর পাওয়া মাত্রই পাড়ায় পাড়ায় খাওয়ানো হয় মাংস ভাত, বিলি করা হয় সবুজ রসগোল্লা। আর এখন অনুব্রতকে নিয়েই চলছে অনুগামীদের উচ্ছ্বাস।





