শাপমুক্তি ঘটল কলকাতার। অবশেষে এবারের আইএসএলে (ISL) জয়ের মুখ দেখল কলকাতার ক্লাব। যুবভারতীতে অনবদ্য ফুটবল খেলে নর্থ ইস্টের (Northeast United) বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতল মোহনবাগান (Mohunbagan Supergiants)। আজকের ম্যাচে সত্যিই দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলেছে দুই দলই। নর্থইষ্ট দারুন ফুটবল খেলেছে আজকের ম্যাচে। দারুন ফুটবল খেলা দলকে হারাতে গেলে স্বাভাবিকভাবে খেলতে হবে অনবদ্য ফুটবল। আর সেই কাজটাই আজ করে দেখিয়েছে হোসে মলিনার ছেলেরা। ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে অসম্ভব লড়াই করে ম্যাচ জিতে দর্শকদের জয় উপহার দিল মোহনবাগান।
খেলা শুরুর ২ মিনিটের মাথাতেই দুর্দান্ত ক্রস রাখেন নর্থইস্টের জিথীন। সেই বল গিয়ে পড়ে আলাদিনের পায়ে। আলাদিন দুর্দান্ত শট নিলেও বল পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। ম্যাচের ৪ মিনিটের মাথাতেই মোহনবাগান বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে মোহনবাগানের জালে বল জড়িয়ে দেন নর্থইস্টের বেমামার। ফের পাল্টা আক্রমণ শানায় মোহনবাগান। পেত্রাতোসের নেওয়া দুর্দান্ত সেটপিস থেকে নিজের মাথা ছুঁইয়ে নর্থইস্টের গোলে বল ঢুকিয়ে দেন দিপেন্দু বিশ্বাস। দুটো দলই মাঝমাঠ দখল করার প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। খেলা চলতে থাকে বক্স টু বক্স। ফের একবার সেট পিস থেকে আক্রমণ শানায় মোহনবাগান। পেত্রাতোস দারুন বল বাড়ান গ্রেগ স্টুয়ার্টের উদ্দেশ্যে। কিন্তু আক্রমণ প্রতিহত হলে কাউন্টার অ্যাটাক শুরু করে নর্থইস্ট। জিথীন এবং আলাদিনের যুগলবন্দীতে দারুন আক্রমণ করে নর্থইস্ট। জিথীনের মাপা পাসে বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে মোহনবাগানের জালে ফের বল জড়িয়ে দেন আলাদিন ২৩ মিনিটের গোলকিপার।
এরপরে ফের মোহনবাগান আক্রমণ করে ২৫ মিনিটের মাথায়। গ্রেগ স্টুয়ার্টের বাড়ানো বল গোলের বাইরে পাঠান মনবীর। ফের ৩৫ মিনিটের মাথায় পেত্রাতোস দারুন ক্রস রাখেন যাতে মনবীর খুবই দুর্বল ভাবে মাথা ছোঁয়ান ফলে বল ধরে নেন নর্থইস্টের গোলকিপার গুরমীত। ফের ৩৭ মিনিটের মাথায় লিষ্টনের বাড়ানো বলে গ্রেগ স্টুয়ার্ট শট নিলে তা প্রতিহত হয় নর্থইস্টের রক্ষনের দ্বারা। ৪৩ মিনিটের মাথায় গিলেইর্মো দৃষ্টিনন্দন একটি ফ্লিকে প্রায় গোল মুখ খুলে ফেলছিলেন তবে এ যাত্রা মোহনবাগানকে বাঁচিয়ে নেন বিশাল কাইথ। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় নর্থইস্ট ২ মোহনবাগান ১। প্রথমার্ধের খেলা বেশ ভালোই খেলে দুটো দলই।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকেই শুরু করে দুই দলই। বক্স টু বক্স আক্রমণ প্রতি আক্রমণে খেলা চলতে থাকে। ৫৫ মিনিটের মাথায় ফের সেটপিস পায় মোহনবাগান। সেখান থেকে ফের একবার প্রথমার্ধের ছবি দেখা গেছিল। মোহনবাগানে সেই সেটপিসের আক্রমণ থেকে বল ধরে প্রতি আক্রমণে উঠে আসে নর্থইস্ট। আশিস রাইয়ের মিসপাস থেকে বল পেয়ে যায় আলাদিন। আলাদিনের শট বাঁচিয়ে দেন বিশাল কাইথ। ৫৮ মিনিটের মাথায় অনিরুদ্ধ থাপা এবং মনবীরের জায়গায় মোহনবাগান কোচ নামান আব্দুল সামাদ এবং জেসন কামিংসকে। ৭ মিনিটের মাথায় মোহনবাগান ডিফেন্ডার অলড্রেডের হেড ধরতে ব্যর্থ হন নর্থইস্টের গোলকিপার গুরমীত। সেই বল জালে জড়িয়ে দেন মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস ঘোষ।
এরপর আক্রমণের সুনামি আনে মোহনবাগান। মুহুর্মুহু আক্রমণ চালাতেই থাকে নর্থ ইস্টের বক্সে তবে গোল করতে ব্যর্থ হয়। এরপর ৭৭ মিনিটের মাথায় পেত্রাতোসকে বসিয়ে মোহনবাগান কোচ নামান তারকা ফুটবলার জেমি ম্যাকলারেনকে। ৮৬ মিনিটের মাথায় গর্জে ওঠে সবুজ মেরুন গ্যালারি। কারণ বাঁ পায়ের শটে নর্থইস্টের গোলে বল ঢুকিয়ে দেন জেসন কামিংস। প্রথমবারের মতো ম্যাচে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। এরপর নর্থইস্ট এবং মোহনবাগান দুই দলই আক্রমণ প্রতি আক্রমণ চালাতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে শেষ হলে বাঁশি বাজিয়ে মোহনবাগানের জয় নিশ্চিত করে দেন রেফারি। ম্যাচের রেজাল্ট মোহনবাগান ৩ নর্থইস্ট ইউনাইটেড ২।





