‘প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বুথস্তরে লড়াই করা মানুষগুলোকে কর্মচারী না সহকর্মী ভাবতে শিখুন’, ফের একবার সুকান্তর সাসপেন্ড হুঁশিয়ারি নিয়ে খোঁচা অনুপমের

লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই যেন ক্রমশ প্রকট হচ্ছে বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীকোন্দল। এই কোন্দল থামাতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন, দলীয় শৃঙ্খল ভাঙা সহ্য করবে না দল। এমনকি, বিক্ষুব্ধদের সাসপেন্ড করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। সেই হুঙ্কার নিয়ে আগেই সুকান্তর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয়য় সম্পাদক অনুপম হাজরা। এবার ফের একবার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তিনি।

কিছুদিন আগেই নাম না করেই সুকান্ত মজুমদারকে আক্রমণ শানিয়ে অনুপম বলেছিলেন, “পদটিকে নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভাবছেন। তাদের বোঝা উচিত এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে”। বিজেপি নেতার পরামর্শ ছিল যে বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা কী কারণে ক্ষুব্ধ? তাদের অভাব- অভিযোগের কথা শুনে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত।

অনুপমের কথায়, “বিক্ষুব্ধরা নিজেদের অভাব অভিযোগ শোনানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের কথা শোনা হয়নি। মানুষের ধৈর্য্যচুত্যি কখন ঘটে? যখন আবেগ দিয়ে দল করার পরও তাদের অভিযোগের কথা শোনা হয় না। এরপরই তাঁরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন”।

তাঁর সংযোজন, ““বিজেপির বুথস্তরের কর্মীরা ধরেই নেয় জেলা সভাপতিকে ফোন করলে কোনও সুরাহা হয় না। কেন জেলা সভাপতি অথবা জেলা নেতৃত্ব তাদের দায়িত্ব পালন করবেন না। অযোগ্য মানুষজন বসে রয়েছে জেলার বিভিন্ন নেতৃত্বে। বুথস্তরের বিজেপি কর্মীদের যথাযথ সম্মান জানানো উচিত। জেলা ও রাজ্য বিজেপিতেও বেশ কয়েকজন ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। পদটিকে নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভাবছেন। এমন চলতে থাকলে লোকসভায় পাঁচটি সিটও পাওয়া চাপ হবে”।

ফের একবার কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে অনুপম বললেন, “প্রানের ঝুঁকি নিয়ে বুথ স্তরে লড়াই করা মানুষগুলোকে কর্মচারী না ভেবে যেদিন থেকে সহকর্মী ভাবতে শিখবেন, সেদিন থেকেই সংগঠনের অধিকাংশ সমস্যা দূর হতে থাকবে”।  

কিছুদিন আগেই সল্টলেকে বিজেপির অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন দলীয় কর্মী, সমর্থকদের একাংশ। বিক্ষোভকারীরা দাবী তুলেছিলেন যে অমিতাভ চক্রবর্তী ও অমিত মালব্যকে রাজ্যে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরাতে হবে। এমনকি তারা বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। এমন ঘটনার পর বিক্ষোভকারী কর্মীদের সাসপেন্ডের হুঁশিয়ারি দেন সুকান্ত। তাঁর সেই সিদ্ধান্তকে কোনওভাবেও সমর্থন করতে নারাজ অনুপম হাজরা।

RELATED Articles