২০২০ সালে বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক পদে বসানো হয়েছিল বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরাকে। তবে এবার সেই পদ থেকে অপসারিত করা হল তাঁকে। কলকাতায় এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তাদের সফরের মাঝেই এই সিদ্ধান্ত দলের। বেশ কিছুদিন ধরেই বঙ্গ বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছিলেন অনুপম। তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু তাও দমে থাকেন নি তিনি। সেই কারণেই কী কেন্দ্রীয় পদ হারালেন অনুপম? উঠছে প্রশ্ন।
কী জানানো হয়েছে দলের তরফে?
বিজেপির মহাসচিব অরুণ সিং একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান যে সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নির্দেশেই অনুপম হাজরাকে সরানো হয়েছে কেন্দ্রীয় পদ থেকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সঙ্গে কলকাতায় এসেছিলেন জেপি নাড্ডা। কলকাতায় থাকাকালীনই তিনি এই নির্দেশ জারি করেছেন।
https://twitter.com/PTI_News/status/1739694851661386235
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের বোমা অনুপমের
বিজেপির তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও চুপ করে বসে থাকার পাত্র নন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অনুপম হাজরা যেন সেটাই বুঝিয়ে দিলেন। পদচ্যুত হওয়ার তিন ঘণ্টা পরই ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন বেসুরো এই বিজেপি নেতা। দলীয় সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে লিখেছেন, শর্ত মেনে চললে তাঁকে নাকি আবার পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বলে রাখি, বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন অনুপম হাজরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার থেকে শুরু করে দলের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য, কেউই বাদ যায়নি তাঁর তোপ থেকে। তিনি এও অভিযোগ করেছিলেন যে দলের অনেক কর্মসূচি থেকেই বাদ দেওয়া হয় তাঁকে। ডাকা হয়না বৈঠকে।
সম্প্রতি ব্রিগেডে লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে দুর্নীতি নিয়েও মুখ খোলেন অনুপম। গীতাপাঠ অনুষ্ঠানের ভিআইপি পাস হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন জনৈক অনিল সাহা। সেই পোস্টটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ভাগ করে নিয়ে অনুপম হাজরা লিখেছিলেন, “এটা যদি সত্যি হয় তাহলে তো সাংঘাতিক ব্যাপার! শেষ পর্যন্ত ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’- এখান থেকেও দুর্নীতি, টাকা উপার্জন! হায়রে – এরা আদৌ হিন্দু? অবশ্য সংগঠনের কাছের লোক হলে শত চুরি এবং দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কোনও পরিবর্তন হবে না, উল্টে মেয়াদকাল আরও বাড়তে পারে! আর কতদিন যে ‘চোর মুক্ত বিজেপি চাই’ বলে গলা ফাটাতে হবে কে জানে!?” এরপরই কেন্দ্রীয় পদ হারালেন অনুপম।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!