বাংলায় ইতিমধ্যেই ধীরে ধীরে উত্থান হয়েছে বিজেপির। গত লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসনে জয়ী হয়ে বাংলায় ভালোহারেই পদ্ম ফুল ফুটিয়েছে বিজেপি (BJP) শিবির। কিন্তু পরবর্তীকালে মুকুল রায় (Mukul Roy) বনাম দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) দ্বন্দ্বের কথা প্রকাশ্যে এসে যাওয়ায় বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছে বিজেপি। এবার এই বিষয়ে দলকে তৃণমূলের উদাহরণ দিয়ে সতর্ক বাণী শোনালেন ডঃ অনুপম হাজরা (Anupam Hazra) যার পিছনে বিজেপির রাজ্য যুব মোর্চা কমিটির নতুন তালিকা ঘোষণার অনেকটা হলেও প্রভাব রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন না রাজ্যের পরিবহন, সেচ ও জল সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যে কারণে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন জল্পনা। তাঁর উদাহরণ দিয়েই যুব মোর্চার সহ-সভাপতি ডঃ অনুপম হাজরা (Anupam Hazra) সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোষ্টে লিখেছেন যে, কাজের মানুষ শুভেন্দু অধিকারী কে দূরে সরিয়ে দিয়ে কাছের মানুষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুরুত্ব দেওয়াই তৃণমূলের (TMC) ধ্বংসের কারণ! বাকি রাজনৈতিক দলগুলিও যেন এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়! সেইসঙ্গে উপযুক্ত হ্যাশট্যাগও দিয়েছেন অনুপমবাবু, লিখেছেন #PoliticalNepotism! এই হ্যাশট্যাগেই উঠেছে জল্পনা।
স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। সকলের বক্তব্য, অনুপম বাবু ঘুরিয়ে বিজেপিকে সতর্ক করলেন যাতে তাদের অবস্থাও তৃণমূলের মত না হয়। বিজেপির নাম তিনি পোস্টে করেননি তবে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা এই পোস্ট আসলে নিজের দলকে সাবধান করে দেওয়ার জন্যই। কারণ কিছুদিন আগে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেন তখন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নাম ঘোষণা করা হয় দিলীপ ঘোষের কাছের লোক প্রকাশ দাস এর। অন্যদিকে বঙ্গ বিজেপির সূত্রে খবর প্রকাশ দাস সেই রকম ভাবে কাজের মানুষ নন। এর ফলে বিতর্ক শুরু হয় যে, প্রকাশ দাস (Prakash Das) এর থেকে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি পদে একাধিক যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন যারা বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ অলংকৃত করতে পারতেন কিন্তু শুধুমাত্র দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) কাছের লোক হওয়ায় প্রকাশ দাসকে এই পদ দেওয়া হয়েছে।
ফলে শুভেন্দু-অভিষেকের উদাহরণ দেওয়াটা নিছক উপস্থাপনা মাত্র, আসল বক্তব্য দিলীপ ঘোষকে সাবধানবাণী শোনানো। এরকমটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।






