‘মাননীয়া আপনিও আসুন একবার…’, জুনিয়র চিকিৎসকদের অনশন মঞ্চে হাজির অপর্ণা সেন-রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীকে আহ্বান পরিচালক-অভিনেত্রীর

গত শনিবার থেকে চলছে জুনিয়র চিকিৎসকদের অনশন। শহরজুড়ে পুজোর গন্ধ। কিন্তু তাও কোথায় গিয়ে যেন একটা ছন্দ কেটেছে এই বছরের পুজোতে। ন্যায় বিচারের দাবীতে আমরণ অনশনে অনড় জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের সেই অনশন মঞ্চে এবার গেলে পরিচালক-অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। গিয়েছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও।

জুনিয়র চিকিৎসকদের অনশন ৬ দিনে পড়ল। গতকাল, বুধবার মুখ্যসচিবের তরফে ইমেল করা হয়েছিল জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকের জন্য। জুনিয়র চিকিৎসকরা সেই মেইলে সাড়া দিয়ে বৈঠকে যান ঠিকই কিন্তু সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে নিজেদের আমরণ অনশনে অনড় তারা।

এদিকে গতকাল, বুধবার সন্ধ্যায় জুনিয়র চিকিৎসকদের অনশন মঞ্চে গিয়েছিলেন অপর্ণা সেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও এক অভিনেত্রী চৈতী ঘোষাল। এদিন অনশন মঞ্চ থেকে অপর্ণা সেন বলেন, “আমি আর বাড়িতে বসে থাকতে পারলাম না। তাই এখানে চলে এসেছি। আপনারাও আসুন অনশন মঞ্চে। এখানে এসে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান”।

এদি অনশন মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন অপর্ণা সেন। তাঁর বক্তব্য, ‘”মাননীয়া, আপনিও আসুন একবার”। এখানে মাননীয়া বলতে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাই বলতে চেয়েছেন পরিচালক-অভিনেত্রী, তা বেশ স্পষ্ট।

এদিন জুনিয়র চিকিৎসকদের অনশন মঞ্চে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সেখানে যাওয়ার পর ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “সরকার ব্যর্থ মানুষকে পরিষেবা দিতে। তাই এখন মানুষ নোটিশ দিয়েছে সরকারকে। সেটা কি কেউ দেখতে পাচ্ছেন না?‌ গোটা বিশ্ব দেখতে পাচ্ছে এই নোটিশ। গণইস্তফা দিয়েছেন ৫০ জন সিনিয়র চিকিৎসক। আর জি কর হাসপাতালের ডাক্তাররা এই গণইস্তফা দিয়েছেন পবিত্র দিনে”।

সূত্রের খবর, এখান থেকে রিপোর্ট নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পাঠাতে পারেন রাজ্যপাল। ফলে এর মধ্যে অনেকেই রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন। ভিডিও বার্তায় রাজ্যপাল বলেছিলেন, “‌নিজের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত। যদি রাজ্যে কোনও দায়িত্বশীল সরকার থেকে থাকে তাহলে ভুল সংশোধন করুন এবং বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চান”।

আরও পড়ুনঃ ওপিডি-র মধ্যেই শ্লীলতাহানির শিকার তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়া, অভিযোগের আঙুল সিনিয়র চিকিৎসকের দিকেই, নিরাপত্তা কোথায় মহিলাদের? 

বলে রাখি, গত সোমবার মুখ্যসচিব জানিয়েছিলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য উন্নয়নমূলক কাজ ১০ অক্টোবরের মধ্যে ৯০ শতাংশ হয়ে যাবে। ‘রাত্তিরের সাথী’ প্রকল্পে ১১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য, এও জানান তিনি। সেই মৌখিক বক্তব্যে আশ্বস্ত হন নি জুনিয়র চিকিৎসকরা। এরপর গতকালের বৈঠকেও কোনও আশানুরূপ ফল পান নি চিকিৎসকরা। ফলে তাদের আমরণ অনশন জারি।  

RELATED Articles