এবার দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের সম্পত্তি, সরকারি অনুদান, এমনকি মা কালীর শাড়ি-গয়নার হিসেবেও গরমিলের অভিযোগ উঠল। এই নিয়ে মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে উঠেছে এই মামলা। সেবায়তদের একাংশ এই মামলা করে আর্জি জানিয়েছেন যাতে এই মামলার তদন্ত ইডিকে দিয়ে করানো হয়। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগেও দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে নানান অনিয়মের জেরে অভিযোগ করে মামলা করা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই সংক্রান্ত মামলাও বিচারাধীন রয়েছে আদালতে। এবার সম্পত্তির হিসাবে গরমিল নিয়ে মামলা করা হল আদালতে। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন মামলাকারীরা।
মামলাকারীরা অভিযোগ জানিয়েছেন যে গত কালীপুজোয় দক্ষিণেশ্বরে দেবী ভবতারিণীর উদ্দেশে ভক্তরা কয়েক হাজার শাড়ি ও বিপুল গয়না দিয়েছিলেন। কিন্তু তার নাকি কোনও হিসেবই নেই। সেই হিসেব চাওয়া হয়েছে মামলায়। একই সঙ্গে আরও অভিযোগ উঠেছে যে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তিরও হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজ্য সরকার গত কয়েক বছরে দক্ষিণেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন খাতে উন্নতির জন্য ১৩০ কোটি টাকা দিয়েছিল। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ২০ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। এই টাকারও নাকি হিসেব নেই বলে পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন যে সেবায়তদের একটা বড় অংশ মন্দিরের ক্ষমতা নিজেদের হাতে রেখেছে। তাদের কথায়, আদালতের রায়ের কারণেই প্রায় ২০ বছর বাদে ট্রাস্ট নির্বাচন হয়। কিন্তু সেখানেও অনিয়ম হতে দেখা গিয়েছে।
শুধু তাই-ই নয়, মূল মন্দির চত্বরে যে গেস্ট হাউস রয়েছে, তার নিচে দোকান বণ্টন পদ্ধতি নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মামলাকারীরা আর্জি জানিয়েছেন যাতে এই বিষয়ে ইডিকে দিতে তদন্ত করানো হয়। অথবা হাইকোর্ট যাতে অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিটি গড়ে দেয়। তারাই এই মামলার তদন্ত করবে।





