ভোরের শহর তখন ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। কেউ বাজারে যাচ্ছেন, কেউ বা কাজে বের হচ্ছেন। দোকানপাট খুলছে একে একে, রাস্তায় বাড়ছে ভিড়। কিন্তু হঠাৎই এক বিকট শব্দ! দাম করে কিছু একটা ফাটল বলে মনে হলো। আশপাশের মানুষজন চমকে উঠলেন। কিছু বোঝার আগেই পরপর কয়েকটি গুলির আওয়াজ। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু হয়ে গেল চারপাশে। দোকানের মালিকেরা শাটার নামাতে ব্যস্ত, পথচলতি মানুষ ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা যেন এক ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নিল।
এই ঘটনা ঘটে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল এলাকায়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা লেগে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে তাঁরা মনে করেছিলেন বাজি ফাটছে। কিন্তু গুলির শব্দ ও পরপর বিস্ফোরণে বোঝা যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। আতঙ্কে সবাই যে যেদিকে পারলেন, পালাতে শুরু করলেন। এক দোকানদার বলেন, “আমি দোকানে বসে ছিলাম, হঠাৎ প্রচণ্ড আওয়াজ পেলাম। বাইরে বেরিয়েই দেখি, সবাই দৌড়চ্ছে। একটু পরেই দেখি একজন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন।” প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেশ কিছুক্ষণ ধরে এলাকা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে মেঘনা মোড় এলাকায়, যেখানে মেঘনা জুটমিল অবস্থিত। অভিযোগ, ওই জুটমিলের দুই শ্রমিকের মধ্যে বিবাদ বাধে, যা পরে বড় আকার নেয়। সেই বিবাদ থেকেই গুলি চলতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একসঙ্গে সাত রাউন্ড গুলি চলে, তারপর পরপর বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় এক তৃণমূল কর্মী গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গিয়েছে। তবে এটা শুধুই দুই শ্রমিকের ব্যক্তিগত বিবাদ, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Mamatha Banerjee’s Oxford Speech : আরজি কর বিতর্কের মাঝে ঐতিহাসিক ভাষণে মমতা, লন্ডনে কি উঠবে রাজনৈতিক ঝড়?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে উঠেছে। তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম সরাসরি বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, “এই হামলার পিছনে অর্জুন সিংয়ের হাত আছে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, আমরা আন্দোলনে নামব।” তবে অর্জুন সিং এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি পার্টি অফিসে কাজ করছিলাম, তখনই হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পাই। বাইরে এসে দেখি, পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এখন আমার নাম জড়িয়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে।”
এই ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। বিজেপি নেতা অর্জুন সিংকে থানায় তলব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর চারটের সময় তাঁকে নোটিস পাঠানো হয় এবং সকাল দশটায় হাজিরা দিতে বলা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুষ্কৃতীদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— বারবার কেন এই এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে? কেন দুষ্কৃতীদের দাপট রোখা যাচ্ছে না? প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!