একসময় ভাবা হতো, আন্তর্জাতিক মঞ্চ মানেই দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতাদের দাপট। কিন্তু সময় বদলেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েও বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার প্রমাণ মিলবে বৃহস্পতিবার, যখন তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজের মঞ্চে ভাষণ দেবেন। যেখানে আগে বক্তৃতা করেছেন কিং চার্লস, বান কি মুন, ডেসমন্ড টুটুর মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বরা, সেখানে এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এটাই তো গর্বের বিষয়!
এই সফর শুধু রাজনীতি নয়, বাংলার সংস্কৃতি, নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক উন্নয়ন—সবকিছুকে সামনে আনবে। কিন্তু এত বড় একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে যখন তিনি বক্তব্য রাখবেন, তখন কি বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব? বিশেষ করে, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে যখন ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে! অনেকেই মনে করছেন, এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চুপ করে থাকার মানুষ নন। বরং তিনি আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছেন, “ওরা বল দিলে আমি ব্যাট চালাব, ছক্কা মারব!” আত্মবিশ্বাসের পিছনে রয়েছে প্রশাসনের তৎপরতা এবং পুলিশের নির্ভুল তদন্ত।
কী বলবেন মমতা? নজরে থাকবে প্রশ্নোত্তর পর্ব
অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে মুখ্যমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠানের টিকিট এক সপ্তাহ আগেই ‘হাউসফুল’ হয়ে গেছে। অনেকেই ওয়েটিং লিস্টে রয়েছেন। কী বলবেন তিনি? মূলত বাংলার উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনার পরেও রাজ্য কীভাবে সামাজিক প্রকল্প চালাচ্ছে, সে সব নিয়েই কথা বলবেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আলোচনা শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রশ্ন উঠতে পারে সাম্প্রতিক নানা ঘটনা নিয়েও। বিশেষ করে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনাটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। গত বছরের ৯ আগস্ট কলকাতার ওই সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গোটা রাজ্যে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে সে দোষী সাব্যস্ত হয় এবং আমৃত্যু কারাবাসের সাজা পায়। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে, অথচ প্রশাসন শুধু একজনকে দোষী সাব্যস্ত করেই দায় সেরেছে।
প্রশ্ন উঠলেই তৈরি মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলে দিয়েছেন, আইন নিজের পথে চলবে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আর জি কর কাণ্ডেও প্রশাসন প্রথম থেকেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছে। পরে তদন্তভার নিয়েছে সিবিআই, আদালতে প্রমাণ হয়েছে তার অপরাধ। কিন্তু বিরোধীরা এতদিন পরেও কেন অভিযোগ তুলছে? মমতার বক্তব্য, “বাংলায় উন্নয়ন হলে, নারী সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিলে ওরা বিরোধিতা করবেই। কিন্তু আমি ভয় পাই না। ওরা বল করলে আমি ব্যাটিং শুরু করব। ছক্কা মারব।” কেলগ কলেজের অনুষ্ঠানে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে, মুখ্যমন্ত্রী যে নির্দ্বিধায় জবাব দেবেন, তা বোঝাই যাচ্ছে। তবে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট— শুধু আমৃত্যু কারাদণ্ড নয়, ধর্ষকের ফাঁসি চায় রাজ্য। সেই দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ Weather update : মার্চের শেষেই গরমে নাজেহাল! ৩৮ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই তাপমাত্রা, ফের স্বস্তি কবে?
টেমসের তীরে নতুন ইতিহাস লিখতে চলেছেন বাংলার মেয়ে
বৃহস্পতিবারের এই ভাষণ নিছকই একটা বক্তৃতা নয়, বাংলার জন্য, দেশের জন্য একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্ববাসীর সামনে বাংলার উন্নয়নের ছবি তুলে ধরবেন, নারীর ক্ষমতায়নের মডেল তুলে ধরবেন। রাজনৈতিক বিতর্ক থাকুক বা না থাকুক, এটা বাস্তব যে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবার বিশ্বমঞ্চে নতুন করে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চলেছেন। আর সেটাই বাঙালির কাছে গর্বের।





