সমস্ত জল্পনাই সত্যি হল। শেষমেশ বিজেপিতেই ফিরলেন অর্জুন সিং। তবে সর্বসমক্ষে নয়, রাতের অন্ধকারে চুপিচুপি পদ্ম শিবিরে গেলেন। ঘটল ২০১৯-এর পুনরাবৃত্তি। ফের একবার দলবদল করলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ। অর্জুনকে নিয়ে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি থাকলেও শুভেন্দু অধিকারীর জেদের কাছে সবই ফিকে।
গত কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনামে অর্জুন সিং। গত রবিবার ব্রিগেডের ময়দানে তৃণমূল লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পরই বিক্ষোভ দেখান অর্জুন। সেই প্রার্থী তালিকায় নাম ছিল না তাঁর। ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকেই লড়তে চেয়েছিলেন তিনি। তবে সেই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করে পার্থ ভৌমিককে। এরপর থেকেই অর্জুনের দলবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এসবের মাঝেই গত পরশু দেখা যায়, অর্জুনের অফিস ঘর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে সেখানে এসেছে নরেন্দ্র মোদীর ছবি। এরপর থেকেই জল্পনা পরিষ্কার হতে থাকে যে তিনি বিজেপিতেই যাচ্ছেন। এরই মধ্যে গতকাল, বুধবার শিলিগুড়ির বৈঠকে অর্জুন প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “উনি কিন্তু বিজেপির এমপি সিট ছাড়েননি। উনি এখনও বিজেপির এমপিই আছে। বিজেপির টিকিটেই ইলেকটেড আছে। সুতরাং এটা ওঁর স্বাধীনতা। উনি কোন পার্টিতে দাঁড়াবে না দাঁড়াবে। আমরা পলিটিক্যালি লড়াই করব”।
তাঁর এহেন মন্তব্যের পরই জানা গেল অর্জুনের দলবদলের কথা। বুধবার গভীর রাতে কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে ভারচুয়ালি বৈঠক হয়। আর বৈঠকেই ফের একবার দলবদল করলেন অর্জুন সিং। অর্জুনকে ফের দলে নেওয়া নিয়ে বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সুকান্ত মজুমদারের লবি তাঁকে দলে ফেরাতে নারাজ ছিল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর জোরাজুরিতেই ফের ঘর ওয়াপসি হল অর্জুনের।
অর্জুনকে নিয়ে পোস্টার পড়েছিল ব্যারাকপুরে। ‘কোনও দলবদলুকে দলে নেওয়া হবে নে’ বলে পোস্টার দেওয়া হয়েছিল বিজেপির তরফে। এর ফলে অর্জুনকে নিয়ে অস্বস্তি ছিলই দলের মধ্যে। সেই কারণেই কোনও রকমের আনুষ্ঠানিক যোগদান না হয়ে রাতের অন্ধকারেই চুপিচুপি দলে ফেরানো হল অর্জুনকে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।





