সম্প্রতি সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট, জেইই (NEET/JEE) আয়োজনের বিরোধিতায় বিরোধী দলগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের ভার্চুয়াল বৈঠক পরিচালনার দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)।
আর সেই থেকে বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের ভবিষ্যৎ কি হতে চলেছে তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা শুরু হয়। অবশেষে জল ছাঁকলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। শুক্রবারের বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমি দিল্লির প্রতিনিধি। দিল্লি আমাকে সভাপতি করেছে। তাই দিল্লির সম্মতিতেই জোট হচ্ছে।’
তিনি স্পষ্ট করে জানালেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট হচ্ছেই। এই ব্যাপারে এগোনোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের ২ শীর্ষ নেতা আবদুল মান্নান (Abdul mannan) ও প্রদীপ ভট্টাচার্যকে (pradeep bhattacharya)। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাম দলও।
গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার প্রদেশ কংগ্রেস সদর দফতর বিধান ভবনে রাজ্যের ৪ জন শীর্ষনেতার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন অধীর চৌধুরী। সেখানেই তিনি স্পষ্ট করেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট হবেই। নির্বাচনে বেশি আসন দাবি করতে গেলে তার আগে দলের সংগঠনকে জেলায় জেলায় সক্রিয় করতে হবে। অধীরবাবুর সিদ্ধান্তেই সহমত জানান প্রায় সব নেতা।
পশ্চিমবঙ্গের একার ক্ষমতায় কংগ্রেসের জেতা সম্ভব নয় তা হাড়ে হাড়ে জানেন অধীরবাবু। সূত্রের খবর, প্রদেশ কংগ্রেসের এক শীর্ষনেতা অধীরের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একক ভাবে ভোটে লড়ার পক্ষে মত দেন। তাঁকে কার্যত ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে অধীরবাবু প্রশ্ন করেন, পশ্চিমবঙ্গে এমন একটা আসন বলুন যেখান থেকে আপনি একার জোরে নিশ্চিত জিতে আসতে পারেন।
এর পরই আবদুল মান্নান ও প্রদীপ ভট্টাচার্যকে বামেদের সঙ্গে জোট আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেন। কবে বাম নেতারা এই ব্যাপারে আলোচনায় বসতে পারবেন তা ঠিক করে জানাতে বলেন তাঁদের। সেই অনুযায়ী দিল্লি থেকে ফিরে তিনি বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানান অধীরবাবু।





