মাঝরাস্তায় তর্ক-বিতর্কে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত! বাবুলের অভিযোগ, অভিজিতের পাল্টা হুমকি

শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে নজিরবিহীন এক ঘটনার সাক্ষী হলেন পথচারীরা। মাঝ রাস্তায় তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। গাড়ি থামিয়ে একে অপরের সঙ্গে তর্কে জড়ান দুই রাজনীতিক। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে।

বাবুল সুপ্রিয় তাঁর গাড়িতে করে হাওড়ার বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। অন্যদিকে, অভিজিৎও তাঁর গাড়িতে করে কলকাতা থেকে হাওড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। আচমকা তাঁদের গাড়ির মধ্যে সামান্য সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাবুল জানিয়েছেন, তিনি নিজে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং পিছন থেকে একটি গাড়ি হুটার বাজিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এসে তাঁর গাড়িকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় বাবুল গাড়ির চালককে সতর্ক করেন।

এই সতর্কতার জেরেই গোলমালের সূত্রপাত। বাবুলের দাবি, তিনি ওই গাড়িটি থামান এবং সেখানে শুরু হয় বচসা। বাবুল জানান, সেই গাড়ির পিছনের আসনে বসেছিলেন সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বাবুল অভিযোগ করেছেন, অভিজিৎকে তিনি গালিগালাজ করেননি, বরং চালকের বেপরোয়া মনোভাবের জন্য সরি বলতে বলেছিলেন।

অন্যদিকে, অভিজিৎ বাবুলের উপর পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বাবুল মত্ত অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করেছেন। সাংসদ আরও অভিযোগ করেছেন, বাবুল তাঁকে গালিগালাজ করেছেন এবং তাঁর গাড়ি এগোতে বাধা দিয়েছেন। এই ঘটনার পর অভিজিৎ জানিয়েছেন, তিনি আইনের সাহায্য নেবেন এবং বিষয়টি নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করবেন।

আরও পড়ুনঃ ফের নিম্নচাপের ভ্রুকুটি! তাল কাটতে পারে শীতে? জানুন আবহাওয়ার আপডেট

রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন মন্ত্রী ও সাংসদের এই ধরনের আচরণকে অনেকেই নিন্দা করেছেন। অপরদিকে, এই ঘটনায় সাধারণ মানুষও বিব্রত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি আরও বড় আকার ধারণ করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্কের আইনত কী সমাধান বের হয়।

RELATED Articles