তৃণমূল কংগ্রেসে ঠিক যতটা সক্রিয় দেখা যেত শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ততটাই বিজেপিতে ম্রিয়মাণ তিনি। আর এর পিছনের কারণটা মূলত বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ কোথাও বৈশাখী ডাক না পেলে সেই জায়গায় পারতপক্ষে যান না শোভন।
আর পদ্ম শিবিরে ঢোকার পর থেকেই এই সমস্যা যেন তাঁদের দুজনকে ঘিরে ধরেছে।
বিজয়া সম্মেলনীকে ঘিরে ফের গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কের তাল কেটে গিয়েছিল শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ এই অনুষ্ঠানে ডাক পাননি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আলোচিত বান্ধবী
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। আর যার জেরে শোভন চট্টোপাধ্যায় বা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই রবিবার ইজেডিসিসি-তে আয়োজিত বিজেপি-র বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে পা রাখেননি। গতকাল অর্থাৎ রবিবার দুপুরে বৈশাখী স্পষ্টতই জানিয়েছিলেন, দুজনের মধ্যে বিভাজন করা হচ্ছে বলেই বিজয়া সম্মিলনীতে যাবেন না তাঁরা।
কিন্তু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন অভিযোগ অস্বীকার করেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
গতকালই তিনি দাবি করে জানান, তিনি নিজে থেকে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন কিন্তু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন সুইচড অফ থাকায় তিনি নিমন্ত্রণ করতে পারেননি। অবশেষে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের কথায় রবিবার রাতেই রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কে ফোন করেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র মারফত খবর এই একটি ফোনেই বরফ গলে। কেটে যায় সমস্ত জটিলতা৷
তবে শুধুমাত্র বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েই থেমে যাননি বৈশাখী। নিজের গোলপার্কের ফ্ল্যাটে দিলীপবাবুকে মধ্যাহ্নভোজের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি৷ এ প্রসঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন ‘রবিবার সকাল থেকেই আমাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ বলছিলেন বিজয়া সম্মিলনী ঘিরে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য দিলীপ দা যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনও কারণে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারপর যেহেতু বিজেপির বিজয়া সম্মেলনী ছিল তো সেই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আমি নিজেই দিলীপ ঘোষকে ফোন করি। অনেকদিন বাদে দিলীপ দার সঙ্গে কথা হল।”
এরপরই তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় দুজনকার মধ্যে জটিলতা কেটেছে কিনা?
সেই প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্যে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান ” আগামী দিনে আমরা যদি বিজেপিতে কাজ করি তাহলে ওঁর নেতৃত্বে কাজ করতে হবে। দিলীপদার মধ্যে আন্তরিকতার অভাব নেই। এমন কেউ কেউ পদে বসে আছেন যাঁদের মন্তব্যের জন্য ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। আশা করি আগামী দিনে কাজের ক্ষেত্রে এই ভুল বোঝাবুঝি বা বিভ্রান্তিগুলি হবে না।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য, বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বে যোগদানের পর থেকে কখনোই সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি বৈশাখী-শোভন কে। বারবারই
রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি সেই ক্ষোভের কথা গিয়ে পৌঁছে ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পর্যন্ত। যদিও গত শুক্রবারের বৈঠকের পর পরই জল্পনা বাড়তে থাকে বিজেপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। শুধু তাই নয় পদ পেতে চলেছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও। সূত্রের খবর খুব শীঘ্রই বিজেপির তরফে এর ঘোষণা হতে চলেছে।





